দুদকের একটি বিশেষ টিম ঘুষ গ্রহণের সময় বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬  সদস্যের একটি বিশেষ টিম কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে। অন্যদিকে ঢাকা জেলা পরিষদের ৪১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মিজানুর রহমান নামের এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেন দুদকের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। রাজধানীর সদরঘাট থেকে তাকে আটক করা হয়।
ভূমি অফিসের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় এক ব্যক্তি তার মালিকানাধীন জমির নামজারি ও জমা খারিজ করার জন্য গেলে গ্রেপ্তারকৃত সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিষয়টি স্থানীয় দুদক কার্যালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করলে দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬  সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
গতকাল সকাল থেকে টিমটি নন্দীগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র কার্যালয়ের আশেপাশে ওত পেতে থাকে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিজানুর রহমান নিজ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে ঘুষের প্রথম কিস্তি বাবদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা গ্রহণ করা কালে তাকে হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এই অপরাধে নন্দীগ্রাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে দুদক।
এদিকে ঢাকা জেলা পরিষদের ৪৫টি প্রকল্প দেখিয়ে ৪১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে মেসার্স হাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার হাজী মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই অভিযোগে গত বছরের ১২ই অক্টোবর তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলার এজাহারে বলা আছে, ঢাকা জেলা পরিষদের অধীনে ২৯টি ভুয়া প্রকল্পের নামে মোট ২৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ এবং প্রকল্পগুলোর নথি বিনষ্ট করার মতো অপরাধ করেছেন তিনি। এই মামলায় হাজী মো. মিজানুর রহমান ছাড়াও আরো ৯ জন আসামি রয়েছে।
অন্য মামলার এজাহারে একই ভাবে বলা আছে, ঢাকা জেলা পরিষদের ১৬টি ভুয়া প্রকল্পের নামে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫০ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ এবং প্রকল্পগুলোর নথি বিনষ্ট করার অপরাধে জড়িত তিনি। এই মামলায় মিজানুর রহমান ছাড়াও আরো ১৩ জন আসামি রয়েছেন।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031