পুলিশ চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে অপহৃত নবম শ্রেণীর ছাত্রী মেহেরুন নেছা আক্তার আনিকাকে ৬ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি । এমনকি তার কোনো সন্ধানও দিতে পারেনি। একমাত্র কন্যার জন্য তার মা রওশনারা আক্তার কেয়া পাগলপ্রায়। কান্না থামছে না কিছুতেই।
আনিকা চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর নয়াবাজার মোহনা আবাসিক চাইল্ড কেয়ার স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বদুর পাড়া গ্রামের আলী আকবর বাড়ীর প্রবাসী আব্দুল মান্নানের একমাত্র কন্যা।
মায়ের সাথে নগরীর হালিশহর থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মেয়র গলির ৭ নম্বর রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। কিন্তু ওই বাসা থেকে গত ২রা ফেব্রুয়ারি বিকেলে একদল যুবক আনিকাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে জানান রওশানারা।

এ ঘটনায় রওশনারা আক্তার কেয়া শুক্রবার রাতেই নগরীর হালিশহর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার হৃদয় (২৮), আরাফাত, (২৮), মিলন (২৭) নামে তিন জনের নাম উল্লেখ করেন।
পুলিশ বলছে, অপহৃত আনিকাকে উদ্ধারে তারা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ৬ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

রওশনারা অভিযোগ করেন, আনিকা স্কুলে যাওয়া আসার সময় হৃদয়, আরাফাত, মিলন নামের ওই তিন বখাটে যুবক প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করতো। প্রেমের প্রস্তাব দিত। প্রেম না করায় আনিকাকে তারা ভয়ভীতি দেখাতো। ফলে আনিকা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর বখাটেরা শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে আনিকাকে জোর পূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না বলে জানান রওশনারা।
তিনি বলেন, বখাটেরা আনিকাকে কোথায় নিয়ে গেছে আমি জানি না। আমার স্বামী প্রবাসী। আমার কোনো ছেলে-পুলে নেয়। আনিকাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও এখনো কোনো হদিস পায়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত হৃদয়, আরাফাত ও মিলনকে খুঁজছে পুলিশ। তারা এলাকায় নেই। তাদের গ্রেপ্তার ও স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ অপহৃত স্কুলছাত্রী আনিকাকে উদ্ধার ও অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে ছাত্রীর মা থানায় জিডি করেছে। মামলা করতে চাইলে তা নেওয়া হবে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031