আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) । ১৪৩৯ বছর আগে ১২ই রবিউল আউয়াল আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা:) জন্ম নেন। ৬৩ বছর পর একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাই মুসলিম
উম্মাহ্‌র জন্য আজকের এ দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি শোকের।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য এরই মধ্যে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্‌রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

 হযরত মুহম্মদ (সা:) ইতিহাসের এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। অন্য ধর্মাবলম্বী অনেকেই তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার বহুল আলোচিত ‘দ্য হান্ড্রেড’ গ্রন্থে হযরত মুহম্মদ (সা:)-কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্থান দিয়েছেন। সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ’ বলেছেন, এই অশান্ত পৃথিবীতে তাঁর মতো একজন মানুষের প্রয়োজন। তিনি বেঁচে থাকলে পৃথিবীজুড়ে সুখের সুবাতাস বইতো। তাঁর আগমনে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল দুনিয়াজুড়ে তা বিস্তৃত হয়েছে। মহানবী (সা:)-কে বলা হয় সাইয়্যিদুল মুরসালিন। অর্থাৎ, সব নবী ও রাসূলের নেতা। তিনি নিখিল বিশ্বের নবী। তার জন্মের সময় আরব দেশ অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ঘোর তমসায় নিমজ্জিত ছিল। এ কারণে ওই সময়কে বলা হয় ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগ’। ওই বর্বর যুগে পৈশাচিক স্বভাবের কালিমাতে মানুষের মানবিক গুণাবলীর অপমৃত্যু ঘটেছিল। সে অবস্থা থেকে মানব জাতিকে মুক্তি দিতে মহান আল্লাহ্‌ হযরত মুহম্মদ (সা:)-কে পৃথিবীতে পাঠান। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ মহান আল্লাহ্‌ পুরো মানবজাতির জন্য সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর, পরিপূর্ণ জীবন বিধান সংবলিত পবিত্রতম আসমানি কিতাব ‘আল-কোরআন’ নাজিল করেন মহানবী (সা:-এর উপর। প্রতিবছর ১২ই রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে মুসলিম বিশ্ব।
Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031