ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা ও সঙ্কট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিসতোস্ত স্তিলিয়ানিদেস মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে নতুন করে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পর তাদের জন্য আরও ৩০ লাখ ইউরো বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ।

এর আগে কমিশনার স্তিলিয়ানিদেস গত মে মাসে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের জন্য এক কোটি ২০ লাখ ইউরো মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

নতুন করে বরাদ্দ করা বাড়তি অর্থ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের সঙ্কটকালীন প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।

কমিশনার স্তিলিয়ানিদেস বলেন, “পরিস্থিতি সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জরুরিভিত্তিতে এই মানবিক সহায়তা দিচ্ছে।

“এই বাড়তি অর্থ নতুন করে বাংলাদেশে আসা শরণার্থী এবং পরবর্তীতে মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর পর সেখানকার মানুষের (রোহিঙ্গা) আশ্রয়, পানি, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তায় ব্যয় হবে।”

ইইউয়ের সব ত্রাণ কার্যক্রমের মতো করে সহায়তার নতুন এই অর্থও জাতিসংঘ ও রেডক্রসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের জন্য ব্যয় হবে।

মিয়ানমারের রাখাইনে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ক্যাম্পে গত ২৪ অগাস্ট রাতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। তখন থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্রোত চলছে।

কক্সবাজারের বালুখালীতে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পের কাছে বুধবার এক বৃদ্ধাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে দুই রোহিঙ্গা শিশু। ছবি: রয়টার্স

মঙ্গলবার পর্যন্ত পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

এছাড়া গত তিন দশক ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্প ও এর বাইরে মিলিয়ে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান ইইউর মানবিক সহায়তা ও সঙ্কট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিসতোস্ত স্তিলিয়ানিদেস।

আন্তজার্তিক মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম করতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে ইইউ।

স্তিলিয়ানিদেস বলেন, “ইতোমধ্যে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সঙ্কট যেন আরও বাড়তে না পারে সেজন্য উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে শিগগির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

“এই কঠিন সময়ে যারা বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সমর্থন দিয়ে যাবে।”

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031