যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করছিলেন মাহমুদ মুসাভি-মাজদ রানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি কোথায় আছেন, কখন কোন অবস্থানে এসব বিষয়ে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তি হিসেবে তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়ার্স ও এএফপি। উল্লেখ্য, গত ৩রা জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের নেতা কাসেম সোলাইমানি নিহত হন ইরাকে। তিনি ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মিলিশিয়াদের মূল হোতা বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। তাকে হত্যার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। মঙ্গলবার ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইল টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মাহমুদ মুসাভি-মাজদ সিআইএ এবং ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন গুপ্তচর। তাতে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে।

শহীদ সোলাইমানি কখন কোথায় থাকেন তিনি সে সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করেছেন ইরানের শত্রুদের কাছে। ইরানের সেনাবাহিনী, বিশেষ করে রেভ্যুলুশনারি গার্ড সম্পর্কে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ইসরাইল ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাচার করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, মুসাভি-মাজদের মৃত্যুদন্ড সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছেন। শিগগিরই তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে।
পরে বিচার বিভাগ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুসাভি-মাজদকে ইরাকে সোলাইমানি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের যে সন্ত্রাসী হামলা তার সঙ্গে যুক্ত করে অভিযুক্ত করা হয় নি। শহীদ সোলাইমানিকে হত্যার অনেক আগে থেকেই এই গুপ্তচরের বিরুদ্ধে সব রকম আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছিল। এতে উল্লেখ করা হয় যে, মুসাভিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবরে। এখানে বলে রাখা ভাল যে, ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে সিআইএর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ১৭ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ইরান। তার মধ্যে কয়েকজনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। তবে ওই গ্রেপ্তার অভিযানের সঙ্গে মুসাভি-মাজদের ঘটনার কোন যোগসূত্র আছে কিনা সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেন নি সরকারি কর্মকর্তারা। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ইরান ঘোষণা করে তারা সিআইএর পক্ষে গোয়েন্দাগিরি ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পাচার করার চেষ্টার জন্য এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে মুসাভির মামলার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা সে বিষয়েও কোনো পরিষ্কার কিছু বলেননি কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। জবাবে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে একটি রকেট হামলা চালায় ইরান। এর কয়েক ঘন্টা পরে ইরানের সেনারা উচ্চ সতর্কতার ভুল করে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে। বিমানটি তেহরান থেকে উড্ডয়নের পর পরই এ ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ মানুষ নিহত হন।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930