নিরাপত্তা বাহিনীর প্যালেট গান বা ছররা গুলি ব্যবহার নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভারতের কাশ্মীরে বিক্ষোভ মোকাবিলায়। গত শনিবারও কাশ্মীরে এক বিক্ষোভে ছররা গুলিতে নিহত হয়েছে এক কিশোর।  ইতিমধ্যেই কাশ্মীরে এই র্ছরা গুলিতে বহু কিশোর থেকে যুবক দৃষ্টি হারিয়েছেন, গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে ভারতের পূর্ব সীমান্তেও এই প্যালেট গান ব্যবহার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। কেননা, এই গুলিতে আহত তথা পঙ্গু হবার ঘটনা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষায় ২০১১ সাল থেকে এই প্যালেট গান ব্যবহার করছে। বিএসএফ অবশ্য দাবি করেছে, এই প্যালেট গান ব্যবহারের ফলে সীমান্তে পাচার অনেক কমে গিয়েছে। পাচারকারীদের মধ্যে নাকি ছররা গুলি এক ধরণের আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এই প্যালেট গান ব্যবহার করা হলেও অনেক সাধারণ মানুষও যে আহত হয়েছেন সেকথা জানিয়েছেন সীমান্তের লাগোয়া বাসিন্দারা। বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ মাসুমের প্রধান কিরীটি রায় এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্যালেট গান ব্যবহার শুধু অমানবিকই নয়, এটি ভারতীয় সংবিধানেরও পরিপন্থী। তিনি আরও জানিয়েছেন, কাগজে কলমে প্যালেট গানের গুলি প্রাণঘাতী না হলেও এই গুলিতে মৃত্যুর অনেক ঘটনা ঘটছে। তবে কাশ্মীরে সেনবাহিনীর এই ছররা গুলি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি সরব হয়েছে। কিন্তু পূর্ব সীমান্তে বিএসএফ-এর ছররা গুলির বেপরোয়া ব্যবহার নিয়ে তেমন  কোনও প্রতিবাদ না ওঠায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সীমান্ত সুরক্ষার নামে প্যালেট গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনিও সোচ্চার হয়েছেন। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্যালেট গানের গুলিতে আহত হয়েছেন ১৫১৭ জন। আর এক বছরের মধ্যে এই র্ছরাগুলিতে আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮৫ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১৪৬৫ জন। তবে বিএসএফ প্যালেট গান ব্যবহার করে সাফল্যের দাবি করলেও বিজিবি প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কমা সত্ত্বেও সীমান্ত এলাকায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে। বিএসএফের সঙ্গে নানা স্তরে আলোচনায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিজিবি তুলে ধরেছে। বিজিবি-বিএসএফের বৈঠকেও সীমান্তে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির ইস্যুটি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা জিরোতে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করা হলেও এই বছরেই সীমান্তে বিএসএফের হাতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে কিশোর ও ছাত্রও রয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031