অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন । সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার কথা জানালেও মুহিত জানান, আগামী বছরের জুন অবধি সময় লেগে যাবে।

সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী এ সময় সেতুর উদ্বোধন ছয় মাস পিছিয়ে দেয়ার কথা জানান।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা টানাপড়েনের পর ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। সেদিন থেকেই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে আসছে সরকার।

মোট ৪২টি পিলারের ওপর নির্মাণ করা হবে এই সেতুটি। এর মধ্যে মাটির গভীরে গঠনগত জটিলতার কারণে ১৪টি সেতুর নকশা পাল্টাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে এই নকশা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এসব পিলারে মোট ৪১টি স্প্যানে বসবে পদ্মাসেতু। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বসেছিল সেতুর প্রথম স্প্যান। সেদিন প্রতি মাসে একটি করে স্প্যান বসানোর কথা ছিল। কিন্তু এরপর দ্বিতীয় স্প্যান বসাতে গিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। আর চার মাস পর গত ২৮ জানুয়ারি বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যান। মোট ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির ৩০০ মিটার এখন দৃশ্যমান হয়েছে। অথচ এই সময়ের মধ্যে চারটি স্প্যান বসে যাওয়ার কথা ছিল অর্থাৎ ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হওয়ার কথা ছিল।

গত ২০ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মাসেতুর কনসস্ট্রাকশন ইয়ার্ড পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্বিতীয় স্প্যান বসানে দেরি হলেও এক সময় প্রতি সপ্তাহে একটি করে স্প্যান বসবে। এর আগে পিলারের নকশায় পরিবর্তন নিশ্চিত হয়ে যাবে।

মন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘পদ্মাসেতু সঠিক সময়ে উদ্বোধন করা হবে। যথা সময়ে কাজ শেষ করার জন্য দিনরাত  ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে। কোয়ালিটি বজায় রেখে যথা সময়ে কাজ শেষ করার জন্য চাইনিজ কোম্পানি মেজর ব্রিজ এবং সিনোহাইড্রো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

তবে ২৬ দিন পর এনবিআরের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, পিলার সংক্রান্ত জটিলতায় সেতুর উদ্বোধনের কাজ কিছুটা পেছাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের অর্থে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু আগামী ২০১৯ সালের জুনে উদ্বোধন হবে। তবে যান চলাচল মার্চ মাস থেকেই শুরু হতে পারে।’

একই অনুষ্ঠানে পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ার সময় সংস্থাটির প্রধান রবার্ট বি জোয়েলিকে ‘অপদার্থ’ বলে আখ্যা দেন।

রবার্ট জোয়েলির মেয়াদের শেষ দিকে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে পদ্মাসেতুতে অর্থায়নের চুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

পরে অবশ্য এই অভিযোগ ভুয়া প্রমাণ হয় কানাডার একটি আদালতে। আর এরপর সরকার নিজ অর্থে সেতুর কাজ শুরু করে।

গত ২০ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে দেশের বৃহত্তম সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৫১.৫০ শতাংশ। এর মধ্যে নদী শাসনে ৩৫.৫০ শতাংশ মূল সেতুর অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031