নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি মাত্র তিন মাস চিকিৎসার জন্য বৃটেনে ছিলেন। আর এ সময়ে তার অফিসের সর্বনাশ করে দিয়েছে ইঁদুরে। আসবাবপত্র নষ্ট করে দিয়েছে। কাগজপত্র কেটেকুটে একাকার করে দিয়েছে ইঁদুরে। এমনকি তার অনুপস্থিতিতে এসি’তেও হামলা চালিয়েছে সর্ববিনাশী ইঁদুর। বৃটেন থেকে দেশে ফিরে মুহাম্মাদু বুহারি অফিসের এ অবস্থা দেখে তো থ’ বনে গেছেন। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামী তিন মাস তিনি নিজের বাড়িকেই অফিস বানিয়ে নেবেন। সেখানে বসেই রাষ্ট্রীয় সব কাজকর্ম সারবেন। এ সময়ে তার সরকারি অফিস নবায়ন করা হবে। কিন্তু এমন ঘোষণায় সন্দেহ পোষণ করেছেন অনেক নাইজেরিয়ান। তারা মনে করছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে বুহারি অফিসে যেতে পারবেন না। তাই তিনি অজুহাত হিসেবে ইঁদুরকে আসামী করেছেন। একজন তো এমন ইঁদুরকে রাজনীতির ইঁদুর বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। নাইজেরিয়া সরকারের মুখপাত্র গারবা শেহু বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অফিস নষ্ট হয়ে গেলেও তার বাসায় যে অফিস আছে তা সুসজ্জিত। সেখান থেকে তিনি যথাযথভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তিন মাস পরে শনিবার বুহারি দেশে ফিরেছেন। তারপর বক্তব্য রেখেছেন। তবে প্রথম দেয়া বক্তব্যে তার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কোনো কথা বলেন নি। ওদিকে তিনি অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন অফিসে অনুপস্থিত। এ জন্য অনেক নাইজেরিয়ান তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি দেশ চালানোর উপযোগী নন। তিনি কি ধরনের রোগে আক্রান্ত, তাকে কি চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এ বিষয়টি খোলাসা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এতে অনেকে ক্ষুব্ধ। তিনি প্রথম লন্ডন সফরে যান ২০১৬ সালের জুনে। তখন তার অফিস থেকে বলা হয় তিনি কানের সংক্রমে ভুগছেন। এরপর জানুয়ারিতে দেশে ফেরেন বুহারি। অজ্ঞাত রোগের চিকিৎসা নিতে তিনি আবার মে মাসে ফিরে যান লন্ডনে। তখন বিরোধীরা অভিযোগ করে যে, তিনি প্রোস্টেট বা মূত্রথলির ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বুহারির পক্ষ থেকে। মুখপাত্র গারবা শেহু বিবিসিকে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছুই নেই। আমরা সব সময়ই প্রেসিডেন্টকে দেখছি। আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন একজন নতুন বুহারি। তিনি এনার্জেটিক, বিজ্ঞ এবং তিনি চমৎকার স্বাস্থ্য উপভোগ করছেন। তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। তাই এটা নিয়ে তার কোনো বক্তব্যে কিছু বলার ছিল না। তবে প্রেসিডেন্ট বুহারি বাসায় বসে সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণ হিসেবে যা বলেছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংশয় প্রকাশ করেছেন বহু নাইজেরিয়ান। ম্যান্ডি চিশোম নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, বুহারির অফিস ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব ইঁদুরের পক্ষে। আমি আপনাদের সঙ্গে মজা করছি, তাই না! নাইজেরিয়ার ইঁদুর রক্তপিয়াসী। আমি তো জানি একদল ইঁদুর আমার মাদুর খেয়ে ফেলেছে। একবোতল অলিভ ওয়েল পান করেছে। পুরো বোতলটাই খেয়ে ফেলেছে। যা পেয়েছে তা-ই খেয়েছে, কিন্তু ইঁদুরের জন্য যে বিষ তা পান করে নি। তাহলে কল্পনা করেন রাজনীতির ইঁদুর কি না করতে পারে!

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031