প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা শনাক্ত রোগী চট্টগ্রামে । সোমবার রাতে দেওয়া তথ্যমতে এ পর্যন্ত ১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে। তবে এরমধ্যে দুই জন লক্ষীপুর জেলার বাসিন্দা।

আর এই বিআইটিআইডিই হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলাসহ কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফেনী ও লক্ষীপুর জেলার একমাত্র করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার হাসপাতাল। যেখানে ফ্রান্সের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান পাওয়া ১০০ কিট দিয়ে গত ২৫ মার্চ থেকে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়।
সেই থেকে গত সোমবার পর্যন্ত এ হাসপাতালে ৭৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮০০ কীট ব্যবহার হয়েছে। ফলে হাসপাতালের কাছে আর দুইশর মতো কিট রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইটিআইডি হাসপাতালের ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ ।

তিনি বলেন, গত ২৫ মার্চ ফ্রান্সের একটি ফাউন্ডেশন থেকে অনুদান পাওয়া মাত্র একশ কিট দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু করেছিলাম। এর কিছুদিন পর ঢাকার আইইডিসিআর আরও একশটি কিট দেয় আমাদের। যদিও চলতি মাসের শুরুতে সরকারিভাবে আরও আটশ কিট দেওয়া হয়। সবগুলো ছিল পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) কিট। সেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাপ্লাই করা। সেগুলো খুব ভাল মানের।

সবমিলিয়ে ভালমানের এক হাজার কিট পেয়েছি আমরা। যা এখন ফুরিয়ে আসছে। বিষয়টি বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা দুই-একদিনের মধ্যে কিট পাঠাবেন বলেছেন। তবে আজ-কালের মধ্যে যদি কিট পাওয়া না যায় তাহলে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বিআইটিআইডিতে বেসরকারিভাবে হাজারখানেক কিট রয়েছে। কিন্তু সেগুলো ছিল র‌্যাপিড টেস্টিং কিট। এসব কিট ব্যবহার নিয়ে নানান প্রশ্ন থাকায় তা ব্যবহার করতে অনিচ্ছুক ল্যাব কর্তৃপক্ষ। এর কারণ এসব টেস্টিং কিটে ভুল ফলাফল আসার সম্ভাবনা থাকে।

ইতোমধ্যে এসব নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাই এসব কিট ব্যবহার না করে আমরা শুধুমাত্র পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) পদ্ধতিতে টেস্ট করছি। র‌্যাপিড টেস্ট কিট নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আমার।

এদিকে পিসিআর কিটের সংকটের বিষয়ে চলতি সপ্তাহে বিআইটিআইডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিট সরবরাহ চেয়ে একটি চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে। কিন্তু দিন পার হলেও আজ মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন কিট পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, আমার হাতে দুইশর মত কিট রয়েছে। যা দিয়ে আর দেড়শর মত নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। বিআইটিআইডিতে গত কয়েকদিন ধরেই গড়ে শতাধিক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। সে হিসেবে আজকের মধ্যে এসব কিট শেষ হয়ে যেতে পারে।  

এ বিষয়ে বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী বলেন, সংকটের বিষয়টি জানিয়ে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছেন পাঠাবেন। তবে এরমধ্যে কিট না আসলে পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, কিট নিয়ে কোন রকম সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিট আসবে। চিন্তার কোন কারণ নেই।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031