প্রায়ই তৃণমূলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বে সহিংসতার নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এ দ্বন্দ্বের কারণ অনুসন্ধান করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের। দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে তৃণমূলের নেতাদের। কোন্দলপূর্ণ জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কথা বলবেন।

দলীয় কোন্দলের কারণে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতাই শুধু নয়, জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে হার হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনিরুল হক সাক্কুর কাছে আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমার ১১ হাজার ভোটে হারের পর জেলা পর্যায়ের কোন্দলের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ।

এই নির্বাচনের আগেও কোন্দলের কারণে সিলেটের ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরেছেন বিএনপির প্রার্থীর কাছে। তিনটি উপজেলাতেই ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ভুগিয়েছে নৌকার প্রার্থীকে। দলের দুই নেতার সম্মিলিত ভোট তিনটি এলাকাতেই বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীর দেড়গুণ বা তার চেয়ে বেশি ছিল।

কুমিল্লায় হারের পর কোন্দলের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে পারছে না ক্ষমতাসীন দল। আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় দলে শৃঙ্খলা না থাকলে বিরোধী পক্ষ সুযোগ নেবে-এই আশঙ্কা থেকেই মাঠে নামে ক্ষমতাসীন দল।

আর এই প্রক্রিয়ায় সুফলও মিলেছে। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৫২ টি এলাকার মধ্যে অল্প কিছু এলাকা ছাড়া সবগুলোতেই জিতেছে আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেড়শ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল টেস্ট কেইস। এখানে আওয়ামী লীগের কোন্দল ছিল না। এবং নির্বাচনের ফল প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ একাট্টা হলে এই মুহূর্তে নির্বাচনে কোনো দল হারাতে পারবে না।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওবায়দুল কাদের। ওই সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কয়েকটি জেলার উপর সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন ওবায়দুল কাদেরের সামনে। এর প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের পাঁচ জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট জেলার থানার নেতাদের ঢাকায় ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ সাংগঠনিক জেলার নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এই বৈঠক। ওইদিন চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার নেতাদের সঙ্গে কোন্দল নিরসনের জন্যে বসবেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

পরদিন ডাকা হয়েছে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে। তারও পরদিন ২৫ এপ্রিল আসবেন সাতক্ষীরার নেতারা। নীলফামারীর নেতাদেরকে ডাকা হয়েছে ২৭ এপ্রিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে ডাকা হবে কোন্দলপূর্ণ অন্যান্য জেলার নেতাদেরকেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছি। এতে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। আর এতে প্রায় সহিংস ঘটনাও ঘটছে। দ্বন্দ্বের কারণ অনুসন্ধান করে সমাধান বের করার জন্য আমাদেরকে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দেশ দিয়েছে।’

ওই নেতা বলেন, ‘বিভিন্ন জেলার নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণ আমরা বের করছি, এর একটি সমাধানের পথও আমরা পেয়েছি। এরকম একটি রিপোর্ট আমরা দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে জমা দিয়েছে। এখন সাধারণ সম্পাদক তৃণমূলের নেতাদের সাথে বসে এর একটি সমাধান বের করবেন।’

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, কয়েকটা সাংগঠনিক জেলায় সমস্যা সমাধান করা গেলেও কিছু জায়গায় এখনও সমাধান করা যায়নি। আর বেশি বিরোধপূর্ণ জায়গার সমস্যা সমাধানের জন্য তারা কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বারস্থ হয়েছেন। এখন কেন্দ্রীয় কমিটিই তা সমাধান করবে।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের জন্য দলের তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করছি। এর অংশ হিসাবে যেসব ইউনিটের কমিটি নেই, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে আমরা সংশ্লিষ্ট জেলা ইউনিটকে তাগাদা দিচ্ছি।’

জানতে চাইলে খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সংগঠনকে অধিক শক্তিশালী ও গণমুখী করা ছাড়া আগামী নির্বাচনে ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। তাই দলের কোন্দল নিরসন করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।’

স্বপন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল এখানে এক পদের জন্য একাধিক যোগ্য ব্যক্তি আছেন। সবাই এক সাথে নিয়ে কাজ করতে আমরা চেষ্টা করছি। দলের স্বার্থে সবাই সকল দ্বন্দ্ব ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।’

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031