বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চলমান দুর্নীতি মামলায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রকেটের গতি পেয়েছে। পেছন থেকে কেউ এগুলোতে তাড়া দিচ্ছে বলেও মনে হচ্ছে বিএনপি নেত্রীর কাছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। একই আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।

অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি করা হয়ছিল ২০০৮ সালের জুনে, আর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করা হয়েছিল ২০১০ সালে। দুটি মামলারই বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন। দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকার পর মামলা দুটি নিষ্পত্তির পর্যায়ে এসেছে।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের দিন আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় লিখিত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে বলেন, ‘কোনো কোনো মন্ত্রী এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা প্রায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে। মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কী হবে তা আগাম জানেন। অথবা তারা তাদের বক্তব্যে মাননীয় আদলতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।’

‘আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলে ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এহেন অপপ্রচার শুধু ন্যায়বিচারকেই প্রভাবিত করে না, বরং তা আদালত অবমাননার শামিল।’

প্রায় ১০ বছর আগে করা মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে রকেটের গতিতে আগাচ্ছে বলেন মনে করেন খালেদা জিয়া। বলেন, ‘দেশে কতো গুরুত্বপূর্ণ মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। কতো মামলা ঝুলে আছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি।’

‘যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগির শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।’

‘কেন, কোন উদ্দেশ্যে এবং কিসের জন্য এতো তাড়াহুড়া? এই তাড়াহুড়ায় কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে? নাকি ন্যায়বিচারের কবর রচিত হবে?’

শেখ হাসিনার হাতে জাদুর কাঠি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা হয়েছিল জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সেই মামলাগুলো ঠিকই খালাস হয়ে গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেল অথবা খারিজ হয়ে গেল।’

‘আমাদের আর কারো হাতে তেমন কোনো যাদুর কাঠি নেই। কাজেই একই সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো একের পর এক সচল হয়েছে ও গতিবেগ পেয়েছে। হয়েছে নতুন নতুন আরো মামলা।

আদালতে এদিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদণ্ড দাবি করেন।

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031