তথ্য পাওয়া গেছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে চাইছেন না বলে । এ কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কখন হাসপাতালে আনা হচ্ছে বা আনা যাবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।

খালেদা জিয়ার মাইল্ড স্ট্রোক করেছিল বলে শনিবার তার চারজন ব্যক্তিগত চার চিকিৎসকের দাবির পর রবিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনার কথা জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মহা কারা পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে এ বিষয়ে খালেদা জিয়া কী চান, সেটাও জেনে নিতে বলেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়া খালেদা জিয়াকে বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তির দাবি করছে বিএনপি। শনিবার তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক জানান, এটি খালেদা জিয়ারও ইচ্ছা।

তবে সরকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসকদের মতামতের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে। এর আগে গত ৭ এপ্রিলও কারাগার থেকে বিএনপি নেত্রীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।  রবিবার দুপুরের পর থেকেই সাংবাদিকরা অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেদিন আনা হয়নি বিএনপি নেত্রীকে। সোমবার সকাল থেকেও চলছে অপেক্ষা।

সকাল নয়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনার কথা ছিল। কিন্তু গতকালের মতো সকাল ১০টা পর্যন্ত তিনি এই হাসপাতালে আসতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। যে কারণে তাকে হাসপাতালে আনা হবে কি না তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

রবিবার খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়ার খবর শুনে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পিজিতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) উনার যে চিকিৎসা, সেই চিকিৎসার ব্যাপারে উনি (খালেদা জিয়া) সন্তুষ্ট নন। সেখানে তার যথাযথ চিকিৎসা হবে না, সেখানে তিনি চিকিৎসা করাতে চান না, সেখানে তিনি চিকিৎসা নেবেন না।’

গত ২৮ মার্চ থেকেই খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে খবর ছড়ায় আর ১ এপ্রিল গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড।

সে সময় বিএনপি তাদের নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার দাবি তোলে। তবে বিএনপি সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসতে চাইছে কি না, এ নিয়ে গুঞ্জন ছড়ানোর পর বিএনপি অবস্থান পাল্টে খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি করছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের পরামর্শের আলোকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031