বাজারে নতুন পিয়াজে ভরে গেছে । পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে সরবরাহ বৃদ্ধি করায় সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে বেশ কিছুটা কমেছে পিয়াজের দাম। বাজারে কেজিপ্রতি পিয়াজের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বাড়তি দামেই ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে পিয়াজ। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সবজি বাজার নাগালের বাইরে ছিল। কিন্তু বর্তমানে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কমেছে শাকসবজির দাম। কয়েকটি বাদে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় মিলছে প্রায় সব ধরনের সবজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন পিয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। দেশি পিয়াজের সরবরাহ বাড়ায় চীনা ও মিসরীয় পিয়াজের কদর কমে গেছে। এ কারণে সেগুলোর দামও কম।
রাজধানীর কাওরান বাজার, সেগুন বাগিচা, রামপুরা বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে প্রতি কেজি নতুন দেশি পিয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, চীনা পিয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিসরীয় পিয়াজ ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং মিয়ানমারের পিয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কাওরান বাজারে পাইকারিতে চীনা ও তুরস্কের পিয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। দেশি নতুন পিয়াজ বিক্রেতারা ৫০০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) চাচ্ছেন।
পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরায় ততটা কমেনি। ঢাকার ছোট খুচরা বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি কেজি চীনা পিয়াজ এখনো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মিসরীয় পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং মিয়ানমারের পিয়াজ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর পাইকারি বাজারে নতুন দেশি পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা। যা দুই দিন আগে বিক্রি হয় ১৪০ টাকা কেজি। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, পিয়াজ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১৬০ টাকা। গত বছর এ সময়ে ছিল ২০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। এ হিসাবে দাম এখনো ৩০০ শতাংশ বেশি।
শ্যামবাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ী কাদের বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নতুন পিয়াজ আসছে। সরবরাহ বেশ ভালো। এটাই দাম কমার বড় কারণ। এদিকে টিসিবির ট্রাকের সামনে থেকে সাধারণ মানুষ লাইন ছাড়াই যত কেজি ইচ্ছা তত কেজি পিয়াজ নিতে পারছেন। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে টিসিবি পিয়াজ স্বল্পমূল্যে কেনার জন্য বিশাল লাইন থাকতো। মতিঝিলের একটি ট্রাকে মিশর থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পিয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন ট্রাকের কর্মচারীরা।
এদিকে বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শালগম, শিম, পালংশাক ও সরিষা শাকের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। এ সব সবজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। চাহিদা কমায় অন্যান্য সবজিরও দাম কমে গেছে।
সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। দাম আরো কিছুটা কমবে। তিনি প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি করছেন ২০ থেকে ৩০ টাকায়। বাঁধাকপি বিক্রি করছেন ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শিম বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর নতুন আলু বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়। এছাড়া করলা, বেগুন, ঢেড়স বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর বরবটি আর উস্তে বিক্রি করছেন ৬০ টাকায়। ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়া টমেটো বিক্রি করছেন ৬০ টাকায়।
বাজারে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে সব সবজিতেই দাম কমেছে। টমেটো, ফুলকপি আর শিম কিনলাম। দামটা মোটামুটি আগের চেয়ে অনেক কম। তবে মাছের দামটা একটু বেশি মনে হলো।
সেগুন বাগিচার বাসিন্দা মনির বলেন, এখন শীতের সবজির মৌসুম। বাজারে সব ধরনের শীতের সবজি ভরপুর রয়েছে। সবজির দাম কমবে স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যে হারে সবজির দাম কমার কথা সে হারে কমেনি।
বাজারে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বাজারে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। তবে পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়, আর লেয়ার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আগের মতোই গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সাইজ প্রতি কেজি ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয় ১৫০-১৬০ টাকা, রুই মাছ কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, কাতলা ২৮০-৩৫০ টাকা কেজি, শোল মাছ প্রতি পিস ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং মাছ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, চিংড়ি প্রতিকেজি ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি, পুঁটি মাছ ১৫০-২০০ টাকা কেজি এবং টেংড়া প্রতিকেজি ৫৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031