দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে । গুম হওয়া মানুষদের স্মরণে আজ মঙ্গলবার এক আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হচ্ছে। সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকায় এরকম ঘটনার শিকার হওয়া পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। তবে বাংলাদেশ সরকার ‘গুম’ হওয়ার এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হবার পর কোন ব্যক্তিকে যদি বিচার ব্যবস্থার কাছে সোপর্দ না করা হয় এবং তাকে আর খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে সেটিকেই গুম হিসেবে ধরা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এধরণের গুমের অভিযোগ এসেছে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে নিয়ে। মি: ইসলামের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি বলছিলেন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তার ভাইসহ ছয়জনকে তুলে নিয়ে যায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর এখনও তারা কোন হদিস জানেন না তাদের। “২০১৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বরে আমার ভাইসহ আরো পাঁচজনকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে র‍্যাব ১ লেখা তিনটি ডাবল কাভার্ড ভ্যান এবং একটি মাইক্রোবাস সহযোগে আসা ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায়। পরে আমার মা ও বোন র‍্যাব ১ কার্যালয়ে গেলে সেখানে কর্মরত সবাই এটা ডিনাই করে। তখন থেকে তারা অস্বীকারই করে যাচ্ছে যে আমার ভাইসহ মোট ছয়জনকে তারা তুলে এনেছে।” মিস ইসলাম জানাচ্ছেন, বিশেষ একটি বাহিনীর নাম থাকায় এ ঘটনায় স্থানীয় থানা মামলা নেয়নি। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, এ ধরণের ঘটনা আগের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। আইন ও শালিস কেন্দ্র তাদের এক হিসেবে বলছে, জানুয়ারি থেকে এবছরের অগাষ্ট মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনা ঘটেছে ৭০ টি। ২০১৫ সালে গুমের ঘটনা ছিল সারা বছরে ৫৫টি। অপর একটি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, এবছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে মোট ৫২ জন মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তারাও বলছে, এ বছর গুমের শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আইন ও শালিস কেন্দ্রের নুর খান বলছেন, এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের জঙ্গি বিরোধী তৎপরতা একটি কারণ হতে পারে। “আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, জঙ্গিদের যে ব্যপক তৎপরতা এবং জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে সরকারের যে তৎপরতা, সেটির কারণে গুমের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।”

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের দেওয়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার অনেকেরই আবার ফিরে আসার মত ঘটনা দেখা গেছে। মি: খান বলছেন, তাদের প্রস্তুত করা তালিকায় কেবল পরিবার যেসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সেগুলোকেই অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এদিকে, গুমের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে সরকার। আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। “আমরা কোনটা স্বীকার করব? যেটা আমাদের কাছে আছে, সেটা আমরা স্বীকার করতে পারি। কিন্তু যেটা আমাদের কাছে নাই, সেটা আমরা কি স্বীকার করব? এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পরিবার যদি তথ্য দেয়, আমরা সেটা খুঁজে বের করতে সবরকম সহায়তা করব।”আইনমন্ত্রী বলছেন, অনেক সময়ই পরিবার নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে না পারায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করতে সমর্থ হয় না। এক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সরকার সেটি সমাধান বা উদঘাটনের চেষ্টা করে থাকে বলে জানিয়েছেন মি. হক।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031