ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী চাটুকার-মোসাহেবরা জঙ্গিবাদের চেয়েও ভয়ঙ্কর। এরা অনেক ক্ষতি করতে পারে। নেতাকর্মীদের এদের ব্যাপারে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছেন । গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁতী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের আয়োজক সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে মহানগরের সম্মেলন আমাকে চিফ গেস্ট করা হয়েছে। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে। শর্ত হলো, আজ যে সম্মেলন হচ্ছে, তার কমিটি আজই ঘোষণা করতে হবে। সম্মেলন করে কমিটি গঠন বিলম্বিত হলে অযোগ্য লোকেরাই বেশি করে স্থান পায়। এতে লবিং এবং দরকষাকষি বাড়ে। ঘরে ঘরে তদবির চলতে থাকে। তদবিরে কেন নেতা হবে, নেতা হবে যোগ্যতায়। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘকাল এই তাতী লীগের সঙ্গে জড়িত তারাই প্রাধান্য পাবে। দল ভারি করার জন্য যারা ভাড়া করে লোক নিয়ে এসেছেন, সেসব লোক এ কমিটিতে স্থান পাবে না। এসব প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, কিছু লোক আছে, সরকারি দলে সময় বুঝে আসে। বসন্তের কোকিল হয়ে আসে। আবার বসন্ত চলে গেলে এই কোকিলরা বিদায় নেয়। এই মৌসুমী অতিথিদের আমাদের দরকার নেই। দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো মৌসুমী অতিথির আমাদের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তাঁতী লীগ নেতৃবৃন্দকে পকেট কমিটি না করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন সামনে। বারবার একটা কথা বলি, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কলহ চলবে না। আন্তঃকলহ চলবে না। যারা ঘরের মধ্যে ঘর করবেন, তাদের এই ঘরে স্থান নেই। যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নেতা এখন শেখ হাসিনা। আদর্শ বঙ্গবন্ধু। আর কোনো নেতা নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, যখন আমাকে বসিয়ে রেখে আমার বন্দনা ও খুশি করে, তখন মাঝে মাঝে ভাবি চাটুকার মোসাহেবরা জঙ্গিবাদের চেয়েও ভয়ঙ্কর। এরা অনেক ক্ষতি করতে পারে। একজন নেতাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। একজন নেতাকে আকাশে তুলে দিতে পারে। সে যা নয় তা বলে তাকে পাম্পপট্টি দিতে থাকে। এই চাটুকার মোসাহেবদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও তাঁতী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি নেছার উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী, কার্যকরী সভাপতি সাধনা দাসগুপ্তা, সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র দেবনাথ।
