দুটি মামলায় সাজা এবং চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে আইনমন্ত্রী মন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে।

বুধবার সংসদে সরকারি দলের বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাজাপ্রাপ্ত মামলা দুটি হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, ক্যান্টনমেন্ট থানায় মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলা।

মন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিং মামলায় নিম্ন আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেয়। ওই খালাস আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা হয়। আপিলের রায়ে আসামি তারেক রহমানকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তারেক রহমানের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৮০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আনিসুল হক বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে মামলায় তারেক রহমান ছাড়াও তার স্ত্রী ডা. যোবায়দা রহমান ও শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হন।

এছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলা ছাড়াও আরও দুটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ১৬৫,৫৫০টি

সরকারি দলের সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৬৫ হাজার ৫৫০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৪ হাজার ৫৪৬টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ হাজার ৩০টি, রাজশাহী বিভাগে ১৬ হাজার ১২৮টি, খুলনা বিভাগে ১৯ হাজার ১৩৮টি, বরিশাল বিভাগে ১০ হাজার ১৬৩টি, সিলেট বিভাগে ১১ হাজার ৮০৭টি এবং রংপুর বিভাগে ২০ হাজার ৭৩৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

আনিসুল হক বলেন, সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরো ৪১টি ট্রাইব্যুনাল সৃজনের মঞ্জুরি প্রদান করেছে। ওই ট্রাইব্যুনালসমূহের জন্য ২০৫টি সহায়ক পদও সৃজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নবসৃজিত এ পদগুলোতে সরকার অতি দ্রুত নিয়োগ প্রদান করছে, যাতে এ মামলাগুলো আরো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রত্যেক আদালত সাক্ষীর সমন জারি নিশ্চিতপূর্বক সাক্ষীগণকে হাজির করে দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সলিসিটরের নেতৃত্বে মনিটরিং সেল কাজ করছে। এছাড়াও প্রতি জেলায় কেস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

আনিসুল হক বলেন, বিচারকের শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আরও অধিক সংখ্যক বিচারকের পদ সৃজনসহ নিয়োগ এবং আদালতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031