চীন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সৃষ্ট সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে চায়। সফররত চীনের বিশেষ দূত সান গোসিয়াং মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান। রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যাওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সমাধানকে চীন সমর্থন করে। মধ্যস্থতার প্রয়োজনে তিনি মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহও ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার অচলাবস্থার বিষয়ে আলোচনা করতে চীনের বিশেষ দূত সান গোসিয়াং চার দিনের সফরে সোমবার ঢাকায় আসেন। মঙ্গলবার তিনি প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীন মধ্যস্থতা করতে চাইলে বাংলাদেশ তাকে স্বাগত জানায়।
আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বরাবরই রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। কিন্তু মিয়ানমারের তরফে এ ব্যাপারে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যুকে কোনো সংকট হিসেবে স্বীকার করে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগও নেয়নি। পাশাপাশি সংকট নিরসনে সংখ্যালঘু মুসলিম এই জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ রাখাইন রাজ্যে গড়ে তোলেনি। এ সময় চীনের বিশেষ দূতকে কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে চীনের বিশেষ দূতের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে ভুল বিভিন্ন তথ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ কিছুই করেনি।
চীনের বিশেষ দূত বলেন, মিয়ানমারের সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হলেও অনেক বিষয়ে তারা সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। ফলে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংহতি গড়ে একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে।
মিয়ানমারের ওপর চীনের দীর্ঘদিনের প্রভাব। কিন্তু নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার অনেকটাই পশ্চিমাপন্থী। এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুর আন্তর্জাতিক সমাধানের বিষয়ে চীন বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে। এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নির্যাতনের বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়ার চেষ্টা করা হলেও চীনের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমারের একটি সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির ৯ জন সৈন্য নিহত হয়। এর জেরে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আসে। এসব নিষ্ঠুরতা থেকে আত্মরক্ষায় অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930