পুলিশের হাতে স্বেচ্ছায় ধরা দিলেন এক নারী রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বেনীপুরের জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে যে বাড়িটি ঘেরাও করা হয়েছে সেখানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ছয় জনের মৃত্যুর পর । তার নাম সুমাইয়া খাতুন। তার বয়স ২৭ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 বুধবার রাতেই সন্দেহভাজন আস্তানাটি শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে সেটি ঘেরাও করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকাল সাড়ে সাতটার পর ভেতরে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীসহ নিহত হয় ছয় জন, যাদের পাঁচ জনই একই পরিবারের সদস্য। তারা সবাই সন্দেহভাজন জঙ্গি বলেই ধারণা পুলিশের।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জঙ্গি আস্তানা থেকে বেরিয়ে আসেন সুমাইয়া খাতুন। তিনি বিস্ফোরণে নিহত বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেনের মেয়ে। এর আগে বাড়ি থেকে সুমাইয়ার ৮ বছর বয়সের ছেলে জুবায়ের হোসেন ও তিন মাসের মেয়ে আফিয়া খাতুনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

সকাল ১১টার পর সুমাইয়া ও তার সন্তানদের পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই গাড়িতে প্রায় ২৫ বছরের এক যুবককেও দেখা গেছে। তিনি সুমাইয়ার দেবর মিনারুল ইসলাম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মিনারুল স্থানীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম।

সুমাইয়ার শ্বশুর বাড়ি পদ্মার চরাঞ্চলে। জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে কয়েকমাস আগে তার স্বামী জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। জহুরুল এখন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দী।

এদিকে জঙ্গি আস্তানার আশপাশের এক কিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তারপরেও উৎসুক জনতা নিষেধাজ্ঞা থাকা এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন। জঙ্গি আস্তানার পাশে এখনও থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের কাজ করতে দেখা গেছে। অবস্থান করছেন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। পুলিশ জানিয়েছে, ডিএমপির একটি বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে আসছে।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে মাঠের ভেতর ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। এরপর তাদের আত্মসমর্পণের জন্য মাইকে আহ্বান করে পুলিশ। কিন্তু সন্দেজভাজন জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে বাড়িটিতে পানি ছিটাতে শুরু করে।

এ সময় বাড়ি থেকে আচমকা জঙ্গিরা বের হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারপর গ্রেনেড ছুঁড়ে। এরপর তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।

ধরা দেয়া সুমাইয়ার বাবা সাজ্জাদ আলী কয়েক বছর আগে পদ্মার চর থেকে পাশের গ্রাম মাছমারায় শ্বশুর বাড়ির পাশে এসে বাড়ি করে। সেখান থেকে চলে এসে প্রায় দুই মাস আগে হাবাসপুরে মাঠের ভেতর টিন দিয়ে একতলা এই বাড়িটি তৈরি করেন। সাজ্জাদ ফেরি করে গ্রামে গ্রামে কাপড় বিক্রি করতেন। তিনি কবে এবং কার মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Share Now
August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31