প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুভুক্ষু মানুষের বাংলাদেশ কীভাবে পাল্টে গিয়ে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর হলো, সেই চেষ্টার কথা তুল ধরলেন । বাংলাদেশের কষ্টের কথা, এই অর্জন বঙ্গবন্ধু দেখছেন কি না, সেই কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে আসে কান্না। থমকে যান তিনি খানিকের জন্য। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের সব কৃতিত্ব দিয়েছেন দেশের জনগণকে। বলেছেন, সরকার পথ প্রদর্শন মাত্র। উন্নয়নের ধারা যেন থমকে না যায়, অর্জন যেন ধরে রাখা যায়, তারও তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের স্বীকৃতিপত্র পেয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৬ মার্চ জাতিসংঘ এই স্বীকৃতিপত্র হস্তান্তর করে বাংলাদেশকে। আর এই আনন্দে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালা।

সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীকে এই অর্জনের জন্য সংবর্ধনা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের উন্নয়নের বিষয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুরো প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে জাতিসংঘের স্বীকৃতিপত্র তুলে দেন অর্থমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক ডাক টিকিট এবং পরে ৭০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক নোট উদ্বোধন করেন।

এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিরোধীদলীয় নেতা, ১৪ দল, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পী, সাহিত্যিক খেলোয়াড়, তিন বাহিনীর প্রধান শিশু, প্রতিবন্ধী, শ্রমজীবীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পাকিস্তান আমলে পূর্ববঙ্গের মানুষ কীভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল, তার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এই বৈষম্যের কারণেই বঙ্গবন্ধু বাংলার মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাঙালিকে দেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আজকে আমাদের যে উত্তরণ, আমরা যে উন্নয়নশীল দেশ, আমার সেই কথাটাই আমার বারবার মনে পড়ে।’

জনগণকে সব কৃতিত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশের জনগণই হচ্ছে মূল শক্তি। তারা পারে সব ধরনের অর্জন করতে।’

‘জাতির পিতা বলে তো বলেই গেছেন যে বাংলাদেশের মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। দাবায়ে যে রাখতে পারবে না, সেটাই আজকে প্রমাণ হয়েছে।’

‘আমরা সরকারে থেকে পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছি, পথ দেখিয়েছি। কিন্তু যারা কাজ করেছে, কৃষক, শ্রমিক মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে, আমাদের পেশাজীবী, সরকারি কর্মচারীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।’

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031