জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে । এতে জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গাসহ সব ধরনের সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এই প্রস্তাব পাস হয়। ১৯৩ সদস্যের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩৪ জন। বিপক্ষে ভোট দেয় নয়টি দেশ। ২৮টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

সাধারণ অধিবেশনে পাস হওয়া এ নিন্দা প্রস্তাব মিয়ানমারের জন্য কোনো আইনী বাধ্যবাধকতা তৈরি না করলেও, তা সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ব্যাপারে সারা বিশ্বের মতামতকে প্রতিফলিত করে।

এর আগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলায় ১০ ডিসেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শুনানি হয়। শুনানির প্রথম দিনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যায় নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে মামলার বাদী গাম্বিয়া।

শুনানির দ্বিতীয় দিনে আদালতে নিজেদের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। রাখাইনে কোনো গণহত্যা হয়নি বলে সাফাই গান তিনি। আদালতে মিথ্যাচার করে সু চি বলেন, রাখাইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার পরই, বিচ্ছিন্নতাবাদ দমাতে অভিযান চালানো হয়, এর জেরে কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে বসবাস করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তারা অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা নিধনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমার সরকারই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী-আরসা সৃষ্টি করেছে। যার মাধ্যমে এখন সূ চি মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী ১১ নভেম্বর বিষয়টি প্রকাশ করেন। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এ মামলা করে গাম্বিয়া।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তাচৌকিতে সন্ত্রাসীদের হামলাকে অজুহাত দেখিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরের কয়েক মাসে অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এই নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031