একজন কূটনীতিক হিসেবে কাজ করছি তখন আমি সিঙ্গাপুরের । এক ভিয়েতনামি কূটনীতিককে তখন আমি প্রশ্ন করলাম, ভিয়েতনামের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে চীনের সঙ্গে স¤পর্কে তার কী প্রভাব পড়বে? তিনি বললেন, ভিয়েতনামের নেতৃত্বে যেই আসুক না কেনো তাকে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে আবার চীনের সঙ্গে কাজও করতে হবে। কেউ যদি একইসঙ্গে এ দুটি করতে না পারে তাহলে তিনি ভিয়েতনামের নেতা হওয়ার যোগ্য নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দলকে এই বাস্তবতাটুকু বুঝতে হবে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়া চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার কেন্দ্রস্থল। এ অঞ্চলের প্রতিটি রাষ্ট্রই নিজস্ব পদ্ধতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সঙ্গেই মানিয়ে চলছে। এ অঞ্চলের দেশগুলো একাধিক মেরুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলে। কোনো নির্দিষ্ট শক্তির সঙ্গে একপাক্ষিকভাবে স¤পর্ক ধরে রাখেনি কেউ।

যুক্তরাষ্ট্রের এ অঞ্চল নিয়ে কিছু গৎবাঁধা ধারণা রয়েছে। তারা ভাবে, যদি কোনো দেশ মুক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে তার মানে এটি কমিউনিস্টদের কবলে পড়েছে, যদি গণতন্ত্র না আগায় এর মানে হচ্ছে গণতন্ত্র পিছিয়ে পড়ছে, আসিয়ান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স¤পর্ক বৃদ্ধিতে মনোযোগী না হয় তারমানে এটি চীনের খপ্পরে পড়েছে। এই ভুল ধারণাগুলোর কারণেই এ অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নীতি ব্যর্থ হয়েছে।
চীনের অর্থনীতির আকার অবশ্যই তার প্রতিবেশীর জন্য উদ্বেগজনক। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিংয়ের আগ্রাসী বিদেশনীতি নিয়ে কমবেশি আতঙ্ক রয়েছেই। কিন্তু দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে অবশ্যই এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে স¤পর্ক রাখতে হবে। তারা হয়তো একতরফাভাবে চীনের ছায়ায় থাকতে চাইবে না কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও বেছে নেবে না।
(সিঙ্গাপুরি শিক্ষাবিদ ও সাবেক কূটনীতিক বিলাহারি কাউসিকানের লেখা থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত)

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031