চীন-ভারত মুখোমুখি হয়েছে সীমান্তে। করোনা থামাতে পারেনি রাজনীতি। কমেনি উত্তেজনাও। পাকিস্তানের সঙ্গেও ভারতের উত্তেজনা বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পারদও উপরের দিকে উঠছে। পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে প্রায়-সকল রাজনৈতিক দল। বৈরিতা ভুলে নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ আর ভুট্টো পরিবারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপল্স পার্টি (পিপিপি) এক হয়েছে ইমরানকে হটাতে।
বিরোধী দলগুলো মনে করে, ইমরানের সরকার আসলে ‘পুতুল’। আসল শক্তি ও ক্ষমতা দেশটির সামরিক বাহিনীর হাতে।

তারাই পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে।
ফলে পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের অবসান চায় বিরোধী দলগুলো। পক্ষান্তরে ইমরান খানের দলও বসে নেই। আন্দোলনকারীদের অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ বলে কথার কামান দাগছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে সামনের বছরের নির্বাচনকে সামনে রেখে। মমতার সরকারকে বিদায় করতে মরিয়া বিজেপি। দফায় দফায় বৈঠক করছেন দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের  নেতারা। দলের শীর্ষ স্ট্র্যাটেজিস্ট, যাকে বলা হয় ‘মডার্ন কৌটিল্য’, সেই অমিত শাহ্ নিজে তদারকি করছেন সবকিছু।
ভারতের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি অমিত শাহের মুকুটে নির্বাচনী সাফল্যের পালক অনেক। অল্প বয়সে শুধু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীই হননি তিনি, হয়েছেন দলের মূল কাণ্ডারী ও পরিকল্পক।
জৈন ধর্মাবলম্বী গুজরাটের বেনিয়া-ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান অমিত শাহ্ যখন যে রাজ্যে দলের হাল ধরেছেন, সেখানেই  দেখিয়েছেন ‘ইলেকশন ম্যাজিক’। ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে একটানে সংখ্যাগরিষ্ঠা ছিনিয়ে দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। ত্রিপুরার মতো প্রান্তিক রাজ্যেও তরুণ এক নেতাকে সামনে রেখে দীর্ঘবছরের কমিউনিস্ট শাসন তছনছ করে অমিত শাহের কৌশলেই ক্ষমতায় আরোহণ করে বিজেপি।
সমালোচকরা বলেন, অমিত শাহ্ নির্বাচনে দলকে জেতাতে যা দরকার, তা-ই করেন। প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ, ভীতি-প্রদর্শন, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কিছুই বাদ দেয়া হয় না। এমনই মরিয়া ও লড়াকু নীতি গ্রহণ করেন তিনি, যা সামলাতে পারেন না প্রতিপক্ষের নেতারা।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির মঞ্চে আলোচিত অমিত শাহের আবির্ভাব হলে রাজ্য রাজনীতির চেহারাই শুধু পাল্টে যাবে না, সৃষ্টি হবে চরম উত্তেজনাও। এমনিতেই বিজেপি শূন্য থেকে রাজ্যের দ্বিতীয় শক্তিশালী দলে পরিণত হয়ে চনমনে  মেজাজে আছে। ক্ষমতা দখলের স্বপ্নও তারা  দেখছেন। এজন্য সকল শক্তি ও সব ধরনের  কৌশল প্রয়োগ করতে পিছপা হবে না বিজেপি। ফলে রাজনীতি ও নির্বাচন কেবল উত্তপ্তই হবে না, সহিংসও হয়ে যেতে পারে।
করোনার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা  যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে সামনের দিনগুলো খুবই উত্তেজক হয়ে উঠতে পারে বলেই ধারণা বিশ্লেষক মহলের।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031