রমজানে যানজট,পণ্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। সে লক্ষ্যে রমজান শুরুর পর সড়কে গাড়ি থামিয়ে পুলিশের তল্লাশি ও চাঁদা আদায় বন্ধ, ফুটপাতে ইফতার বিক্রি বন্ধ এবং ভারী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএমপি। বলা যেতে পারে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। গৃহীত একগুচ্ছ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী গতবারের চেয়ে বেশি স্বস্তি পাবেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গতকাল দৈনিক আজাদীর প্রথম পাতায় ‘রমজানকে সামনে রেখে একগুচ্ছ পরিকল্পনা সিএমপির, পণ্যমূল্য, যানজট ও আইন–শৃঙ্খলা বিষয়ে কাজ করবে পুলিশ’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নগর পুলিশের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে– ইফতার, তারাবীহ ও সেহরীর সময় হর্ণ বাজানো ও মাইক বাজানো থেকে বিরত থাকা। গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে কেউ যাতে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা। অজ্ঞানপার্টি, মলম পার্টি ও টিকিট কালোবাজারী থেকে সতর্ক থাকা। রাস্তা দখল করে ইফতার সামগ্রী বিক্রি না করা। অপরিচিত ব্যক্তির থেকে কোন কিছু না খাওয়া ও পান না করা। নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যতীত যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় না করানো। মার্কেটে নারী বান্ধব কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য স্থিতিশীল রাখা। রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্রয়–বিক্রয়, ব্যবসা–বাণিজ্য, অর্থের লেনদেন ও স্থানান্তর বাড়বে। তাই কোনো ব্যক্তি, সংস্থা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তরের জন্য পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করবে। থানা অপারগ হলে পুলিশ অ্যাস্কর্ট প্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে আবদুল গণি রোডে অবস্থিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমে গাড়ি পাঠালে মানি অ্যাস্কর্টে পুলিশি সহায়তা পাওয়া যাবে। হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঈদের ভ্রমণ পরিকল্পনাকরণ এবং শেষ মুহূর্তে যানবাহনে মারাত্মক ভিড় এড়িয়ে চলা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে, লঞ্চে ও বাসে না উঠা, চালককে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাতে নিরুৎসাহিত করা, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে গ্যাসের সংযোগ, ইলেকট্রিক সুইচ বন্ধ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলে বাড়ির সিকিউরিটি গার্ডকে সতর্কাবস্থায় রেখে যাওয়া ও প্রতিবেশিকে অবহিত করা ইত্যাদি।

যানজট, পণ্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা অত্যধিক। কেননা মহাসড়কের যানজটের প্রভাব পড়ছে বাজারে। আজাদীতে প্রকাশিত ভিন্ন এক খবরে জানা যায়, যানজটের কবলে পণ্যবাহী ট্রাক–কাভার্ড ভ্যান ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থল বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসতে সময় লাগছে ৪০ থেকে ৪৫ ঘণ্টা। তবে স্বাভাবিক দিনগুলোতে পণ্য পরিবহনে সময় ব্যয় হত সর্বোচ্চ ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এমন বিলম্ব হওয়ায় পাইকারি বাজারে এরই মধ্যে ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু পণ্যের দাম কেজিতে ২৪ টাকা করে বেড়ে গেছে। এছাড়া ট্রাক–কাভার্ড ভ্যানের সংকটের পাশাপাশি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ।

আবার নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সিএমপির সমন্বয় দরকার। বাজারে মনিটরিং সেলের সদস্যদের বাজার পরিদর্শন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযান চালানোতে এই সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৬ কোটি ভোক্তার ভোগান্তি লাঘবে সরকারি প্রশাসনকে নানামুখী উদ্যোগ নিতে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে একটা গড়পড়তা অভিযোগ চালু আছে। সেটা হলো : ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বর্তমানে যেভাবে পারছেন, সেভাবে মানুষের পকেট কাটছেন। তাদের এই অত্যাচার থেকে অন্যান্য ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষই রেহাই পাচ্ছেন না।’

যানজট, পণ্যমূল্য ও আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উদ্যোগ যদি সফল হয়, তাহলে নগরবাসী স্বস্তি পাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা প্রত্যাশা করবো, শুধু রমজান নয়, বছরব্যাপী মহানগরীর চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে থাকবে। সাধারণ মানুষ যেন পুলিশের প্রকৃত সেবা পায়, সেই প্রচেষ্টা তাদের থাকা দরকার।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031