বাংলাদেশেও ভয়াল ‍রূপ নিচ্ছে বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাস । এজন্য সবাইকে বাংলা নববর্ষে বাড়িতে থেকে তা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশবাসীকে ১৪২৭ বঙ্গাব্দের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবনে খোলা মাঠে রেকর্ড করা ভাষণটি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় একযোগে দেশের সব রেডিও এবং টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এছাড়া ১৬ মিনিটের এই ভাষণটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লাইভ সম্প্রচার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে পয়লা বৈশাখের বহিরাঙ্গনের সকল অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতিমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতঃপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানও আমরা একইভাবে উদযাপন করবো।’

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ঘরে বসেই এবারের নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করবো। কবিগুরুর কালজয়ী গান ‘‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ গেয়ে আহ্বান করবো নতুন বছরকে। অতীতের সকল জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আমরা সামনে দৃপ্ত-পায়ে এগিয়ে যাবো; গড়বো আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।’

‘করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই:

মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়

আড়ালে তার সূর্য হাসে,

হারা শশীর হারা হাসি

অন্ধকারেই ফিরে আসে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রবাসে বাঙালিরা বাংলা নববর্ষ আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করে থাকেন। রাজধানীতে রমনা পার্ক, চারুকলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নগরীর নানা স্থান মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে এদিনটি। গ্রামীণ মেলা, হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠানে গোটা দেশ মেতে ওঠে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার সবাইকে অনুরোধ করবো কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজ-সহ নানা মওসুমি ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে করোনাভাইরাসের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তা থেকে উত্তরণে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান। দেশবাসীকে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। এই দুর্যোগ শিগগির কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930