নাইজেরিয়ার গবেষকরা এবার করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে টীকা বা ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন । স্থানীয় মিডিয়ায় শনিবার খবর প্রকাশিত হয়েছে এ নিয়ে। এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ রিসার্স গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. ওলাদিপো কালাওলে। তিনি বলেছেন, এমন একটি বৈশ্বিক মহামারিতে সমাধান দেয়া আমাদের নেশা। তাই আমরা আমাদের টিমের শক্তি ব্যায় করেছি এবং বাস্তবে টীকা তৈরি করেছি। তাকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় ওয়েবসাইট লিডারশিপ এ খবর দিয়েছে। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সি জানিয়েছে, ড. ওলাদিপো কালাওলে শুক্রবার নাইজেরিয়ার ইডা রাজ্যে আদেলেকে ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি বলেছেন, এই টীকাটি বাস্তব।

আমরা অনেকবার এর বৈধতা পেয়েছি। এটা তৈরি করা হয়েছে আফ্রিকানদের লক্ষ্য করে। তবে অন্য গোত্রের মানুষের ক্ষেত্রেও এটি কাজ করবে। এই টীকা ভুয়া হতে পারে না। আমার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল সুনির্দিষ্ট। এর জন্য যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক তৎপরতা প্রয়োজন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যাদের ওষুধ প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি মানুষের প্রয়োজন টীকা। তাই তাদের গবেষকরা টীকার দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
লিডারশিপের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই গবেষণায় প্রাথমিকভাবে অর্থ তহবিল দিয়েছে ট্রিনিটি ইমিউনোডেফিসিয়েন্ট ল্যাবরেটরি এবং হেলিক্স বাইয়োজেন কনসাল্ট, ওগবোমোশো। এই অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার ডলার। ড. ওলাদিপো কালাওলে বলেছেন, তার টিম কার্যকর একটি টীকার জন্য আফ্রিকাজুড়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন এই ভাইরাসের জিনোম নিয়ে বিস্তর গবেষণার জন্য। এরপর খুব সতর্কতার সঙ্গে তারা এই টীকা আবিষ্কার করেছেন। তবে এর নাম প্রকাশ করেন নি ড. ওলাদিপো কালাওলে। তিনি বলেছেন, এই টীকা ব্যাপকভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য বাজারে ছাড়তে তাদের কমপক্ষে দেড় বছর সময় লাগবে। কারণ, এই গবেষণা, বিশ্লেষণ মেডিকেল অথরিটি থেকে অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন মিশরে। সেখানে মৃতের সংখ্যা ২০১৭। এরপরে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানে মারা গেছে ১৮৩১ জন। আলজেরিয়ায় মারা গেছেন ৮২৫ জন। সুদানে ৫০৬ জন এবং নাইজেরিয়ায় ৪৭৫ জন। সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭১৫। মিশরে আক্রান্ত ৫২ হাজার ২১১ জন। নাইজেরিয়ায় ১৮,৪৮০ এবং আলজেরিয়ায় ১১,৫০৪ জন। ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনার বিস্তার শুরু হয়। তারপর তা কমপক্ষে ১৮৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে মহামারি। সারাবিশ্বে কমপক্ষে ৪ লাখ ৬০ হাজার মানুষ মারা গেছেন এই ভাইরাসে। আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৮৬ লাখ। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন কমপক্ষে ৪২ লাখ। এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930