যুক্তরাজ্যে শনিবার রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত প্রাণহানী ঘটেছে ২৩৩ জনের। করোনা ভাইরাস প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন তিন বাংলাদেশি। ইতিমধ্যে মৃত দু’জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী। একজনের লাশ এখনও দাফনের জন্য অপেক্ষমাণ। গার্ডেন অব পিস ফিউনারেল সার্ভিস মুসলিমদের জানাজা ও দাফন প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন করছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া অব্যাহত নাও থাকতে পারে।

বৃটিশ সরকার বলছে, এভাবে লাশের সারি বাড়তে থাকলে কবরের জায়গা সংকট দেখা দেবে এবং দাফনের ক্ষেত্রে মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ লাশ দাফন না করে পুড়িয়ে ফেলা হতে পারে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বৃটেনের মুসলিম কমিউনিটিকে।
মুসলিম এনগেইজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট নামক একটি সংস্থার ওয়েবসাইটে শনিবার সকালে এই তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, সরকার ‘ইমার্জেন্সি করোনা ভাইরাস বিল ২০১৯-২১’ নামে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করেছে। এই বিলের খসড়া প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে একদফা বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২শে মার্চ সোমবার তা পাস করার লক্ষ্যে আবারও পার্লামেন্টে তোলা হবে। এই বিলটি পাস হয়ে গেলে বর্তমানে বৃটেনের বহু ধর্মের মানুষের স্ব স্ব ধর্মমতে দাফন কাফনের যে অধিকার আছে সেটা খর্ব হবে। স্থানীয় কাউন্সিল যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে দাফন করতে পারবে। কাউন্সিল চাইলে ধর্মমতে দাফনের অনুমতি দেবে, নতুবা মরদেহ জ্বালিয়ে ফেলতে পারবে।
বর্তমান ‘পাবলিক হেলথ ১৯৮৪ ধারা ৪৪ (৩)’ আইনে মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিজ নিজ ধর্মমতে লাশ দাফনের অধিকার দেয়া আছে। ফলে স্থানীয় কাউন্সিল চাইলেই কারো মরদেহ জ্বালিয়ে ফেলতে পারে না। তাই পার্লামেন্ট চাইছে এই আইনকে পরিবর্তন করতে। আইন পাস হয়ে গেলে ইসলামী নিয়মে লাশ দাফনের কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই বিলটি পাস করার আগে তাতে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে এমপিরা ভূমিকা রাখতে পারেন।

মুসলিম এনগেইজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট-এর ওয়েবসাইটে আরো বলা হয়েছে, হিউম্যান রাইট আইন ১৯৯৮ অনুসারে মানুষের ধর্মীয় অধিকার উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই মুসলমানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় এমপিদের সোচ্চার হতে হবে। সংস্থাটি বৃটেনের সর্বস্তরের মুসলমানদেরকে তাদের নিজ নিজ এলাকার এমপির কাছে চিঠি লিখতে অনুরোধ জানিয়েছে। আগামী ২৩শে মার্চ বিলটিতে যেন প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়। মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় অধিকার যাতে রক্ষা হয়। এই লিংকে https://www.mend.org.uk/whats-new/action-alerts/covid19-bill/ ক্লিক করে খুব সহজেই নিজ নিজ এলাকার এমপির কাছে চিঠি লিখা যাবে। উল্লেখ্য, বৃটেনে সাড়ে ৬ কোটি মানুষের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ৩০ লাখ । মুসলমান ছাড়াও ইহুদী ধর্মাবলম্বীর লাশ দাফন করা হয়।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031