পাবনায় কলেজশিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বনে বাধা দেয়ায় । গত রবিবার ওই ঘটনার ভিডিও ফাইরাল হলে নিন্দার ঝড় উঠে। অভিযোগ করা হচ্ছে, শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়িরা হলেন কলেজের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এই সদস্যের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তার সহকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।

শিক্ষকরা জানান, রবিবার  দুপুর দুইটায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান। কলেজের মূল ফটকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিতে হামলা করে মাসুদুরকে পেটাতে শুরু করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। ছবিতে কলেজ সভাপতি শামসুদ্দীন জুন্নুনকে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে দেখা গেলেও ওই শিক্ষকের অভিযোগ কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি জুন্নুনের নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে।

সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ তো দূরের কথা নিরপত্তাহীনতায় তিন দিন ধরে ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না তিনি।

এদিকে এই ঘটনাকে চাপা দিতেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তবে এই অভিযোগকে বানোয়াট বলছেন শিক্ষকরা।

অন্যদিকে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কোন ব্যবস্থা না নিলেও বানোয়াট অভিযোগের তদন্তে কমিটি করেছে কলেজ প্রশাসন। এ নিয়ে শিক্ষকদের চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি শহিদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় তিনি নিজেই অনুতপ্ত। বহিরাগতা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সময় আমি উপস্থিত হয়ে শিক্ষককে রক্ষা করি এবং আমার উপস্থিতি টের পয়ে বহিরাগতরা পালিয়ে যায়।’ তবে তিনি দাবি করেন, ‘তিনি বা ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়।’

এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছে এ বিষয়ে আমরা জরুরি সভা করেছি এবং আমাদের দাবি হলো যারা আমাদের শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে আমরা তার বিচার চাই।

তিনি বলেন, তাদের কলেজসহ সারাদেশের সকল কলেজ সন্ত্রাসমুক্ত হবে, বহিরাগত মুক্ত হবে এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তার দাবি জানান।

সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় তিনি খুবই দুঃখিত, লজ্জিত এবং গোটা শিক্ষক সমাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় শিক্ষক পরিষদের উদ্যোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।’

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন অধ্যক্ষ।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930