প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে উখিয়া-টেকনাফের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের দুয়ার খুলে দিলেন । সেই খুশি আর আনন্দে উখিয়া-টেকনাফের জনগণের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। কক্সবাজার-টেকনাফ স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ সড়কটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নেমেছে। কক্সবাজার পর্যটনশিল্পে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মাত্রা।

এই স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ সড়কটি উদ্বোধন হওয়ার পর টেকনাফ উপজেলা বিশ্বের দরবারে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের আদলে নির্মিত হয়েছে স্বপ্নের এই বিশাল দীর্ঘতম সড়কটি। বঙ্গোপসাগর সৈকত ঘেঁসে নান্দনিক দৃশ্যে ঘেরা এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে। হাজার-হাজার পর্যটক অভিভূত হয়ে বিশাল সমুদ্রের বুকে সূর্যাস্তের মনোমুকর অপরূপ দৃশ্য দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।

এ মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি সদস্যরা। ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটির উদ্বোধন করেন। তার পাশাপাশি উদ্বোধন করা হয়েছে টেকনাফ পৌরসভার নাফনদীর ওপর নির্মিত বৃহৎ আকারের আর্কষণীয় জেটিটি। এই জেটি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত স্থানীয় যুবক-যুবতীর মেলা বসছে সেখানে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার হার থেকে পিছিয়ে পড়া উখিয়া-টেকনাফে শিক্ষার মান বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। পাশাপাশি উখিয়া-টেকনাফের গ্রামীণ সড়কগুলো থেকে শুরু করে এমন কোনো সড়ক নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়, বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে টেকনাফ উপজেলায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সর্বমোট ২৩টি নতুন ভবন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুনরূপে নতুন সাজে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেযোগ্য সড়ক, কালর্ভাট, ব্রিজ। এর মধ্যে টেকনাফ সীবিচ সড়ক, সাবরাং শাহপরীর দ্বীপ সড়ক অন্যতম। যা আগামীতে পর্যটকদের আগমনকে আরো উদ্বুদ্ধ করবে। এক কথায় বলতে গেলে দিনবদলের পালা নিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় টেকনাফের মানচিত্র বদলে গেছে।

জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে টেকনাফের মানচিত্র বদলে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন টেকনাফ উপজেলার সাধারণ মানুষ।

টেকনাফ উপজেলায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিয়ে স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি বলেন, স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ সড়কটি প্রথমে পর্যটননগরী কক্সবাজার শহর থেকে শুরু করে উখিয়া উপজেলার ইনানি পর্যন্ত নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। আমি নবম জাতীয় সংসদে প্রস্তাব দিয়েছিলাম এই সড়কটি টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত করতে পারলে পর্যটনখাতে আরো উন্নয়ন হবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখর হবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত উখিয়া-টেকনাফও।

এর পরিপেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিকতার সাথে এই স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ সড়ক আমাদেরকে উপহার দেন। এবং খুব দ্রুতগতিতে কাজের বাস্তবায়ন শেষ করেন। এখন এই সড়কটি শুধু কক্সবাজার বা গোটা দেশের নয় বরং সারাবিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় ও নান্দনিক সড়কে পরিণত হয়েছে জানান স্থানীয় সাংসদ ।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031