প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়ার হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে মারা যাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন । তিনি বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেনের যেন সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যান্ত্রিক কিছু ত্রুটি হলেও বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলেন তিনি। আজ একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর স্পিকার সংসদ অধিবেশন সমাপনীসংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। একেক সময় একটা জায়গায় হঠাৎ সমস্যা চলে আসে। আবার মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি হয়। এর কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা মৃত্যুবরণ করেছেন, আমি তাঁদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে এ রকম ত্রুটি যাতে না দেখা দেয় বা হলেও যাতে বিকল্প থাকে, ইনশাআল্লাহ সে ব্যবস্থা আমরা করব। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘লকডাউন ঘোষণা করছি। দেশবাসীকে বলব, আপনারা অন্ততপক্ষে নির্দেশনাগুলো মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখেন। অন্যকেও সুরক্ষিত রাখেন। এটার একটাই উপায় মাস্ক পরা, হাত পরিষ্কার করা, আর কোনোমতেই যেন সংক্রমিত না হয়, তা থেকে দূরত্ব বজায় রাখা।’ তিনি গরম পানির ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘সেই সঙ্গে ভাপ নেয়া। ভাপটা নিলে ফুসফুসে কিছু জমে থাকলে সেটা তাড়াতাড়ি ক্লিয়ার হয়ে যায়। দু-তিনবার করে ভাপ নিলে পরেই, পাঁচ মিনিট করে নিলেও উপকার হয়। আমরা কিন্তু নিই। আমি গিয়েই কিন্তু ভাপ নেব। ঘরে ফিরেই আগে ভাপটা নেব।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গারগল করতে হবে। তবে গারগল করার সময় বেশি গরম পানি যেন না হয়। কুসুম গরম পানি দিয়ে করতে হবে। নতুবা গলার ক্ষতি হবে। এগুলো করতে পারলেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’ টিকার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টিকা আসতে শুরু করেছে। কোনো অসুবিধা হবে না। সারা বাংলাদেশে টিকা দিয়ে সবাই যেন সুরক্ষিত থাকে, সে ব্যবস্থা আমরা করব। করোনা পরীক্ষাও বিনা মূল্যে করে দিয়েছি। টিকার ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাজেটে টিকার জন্য পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয়েছে। ৩২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা আমরা বরাদ্দ রেখেছি। এর বাইরেও ১০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে রিজার্ভ।’ করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে জনগণের বাড়ি যাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে গত ঈদে অনুরোধ করলাম, জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন না। কিন্তু কেউ শোনেনি। করোনা ছড়িয়ে পড়ল। তখন সবাই শুনলে এমন ছড়াত না; এটাই বাস্তবতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষ থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। এমন কোনো খাত নেই, যেখানে আমরা সহযোগিতা করিনি।’ লকডাউনে মানুষের পাশে সরকার আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে বাজেট দিয়েছি, সেটাতে যেমন জীবন-জীবিকা প্রাধান্য দিয়েছি। কেউ না খেয়ে যাতে কষ্ট না পায়, তার জন্য দরকার হলে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেব।’ করোনার টিকার আর সমস্যা হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফাইজার, মডার্না ও সিনোফার্মের টিকা এসেছে। টিকার জন্য চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া—সব জায়গায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। টিকার জন্য পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয়েছে বাজেটে। কোনো সমস্যা হবে না। তিনি আরও বলেন, অনেক দাম দিয়ে টিকা কেনা হচ্ছে। কিন্তু মানুষকে এই টিকা বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় যেখানে সংক্রমণ বেড়ে গেছে, সেখানে বিনা মূল্যে করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিদেশগামীদের টিকার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031