এককের ঘরে অর্থাৎ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনে কথা রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি ব্যাংকের জন্য দুটি বিশেষ সুবিধা দেয়ার পর ঋণের সুদের হার ।

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সুদের হার না কমালে দেশে ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে না ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে না।

শুক্রবার বিকালে গণভবনে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকদের সংগঠন ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন সদস্যদেরকে এই আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিতে সেখানে গিয়েছিলেন বিএবি নেতারা।

ব্যাংক মালিকদেরকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে সুদের হার কমানোর কথা বলতে চাই, না হলে দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়… এটিকে অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।’

‘সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনলে আপনারা লাভবান হবেন, এতে জনগণ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ করতে অধিক আগ্রহী হবে।’

বাংলাদেশে গত দু্‌ই বছরে ঋণের সুদের হার ক্রম হ্রাসমান ছিল। আর এটি এককের ঘরে নেমে আসায় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা অনেকটাই স্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে আমানতের পাশাপাশি ঋণের সুদের হারও বাড়ছে। ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ করছে নয় থেকে ১০ শতাংশ সুদে। ফলে ঋণের সুদের হারও বেড়ে গেছে অনেক।

আর এই অবস্থায় গত ১ এপ্রিল বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংকগুলোতে দুটি ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন। এগুলো হলো: বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) এক শতাংশ কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা। এতদিন এই আমাদের ২৫ শতাংশ পেত বেসরকারি ব্যাংক।

এই সুবিধার ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ফেরত পারে বলে জানিয়েছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি। এর ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কমে আসবে। আর তারল্য সংকট মোকাবেলায় ব্যাংকগুলো যে অতিরিক্ত সুদে আমানত সংগ্রহ করছিল, সেটির আর প্রয়োজন হবে না। আর এই সুবিধার দিলে ঋণের সুদ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন ব্যাংক মালিকরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আপনাদের উত্তাপিত সকল সমস্যার সমাধান করেছি, এখন আপনাদেরকে অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।’

এর আগে বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সময় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১৬৩ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত এবং নিহতদের পরিবারের ১৪৪ জন সদস্যের কাছে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অর্থাৎ জীবিত বাবা/ মা, স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানদের পৃথকভাবে অনুদানের চেক দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারও বক্তৃতা করেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031