ইউক্রেনের নিজেদের গোলাবারুদের মজুদ তলানিতে নেমে এসেছে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে । কেবল পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তা এখন যুদ্ধে টিকিয়ে রাখতে পারে দেশটিকে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান ভাদিম স্কিবিৎস্কি যুক্তরাজ্যের দৈনিক পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে রাশিয়া আরও এক বছর বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। যুদ্ধের সম্মুখভাগে অস্ত্রশস্ত্রে কিয়েভ উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তর সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পশ্চিমাদের আস্থা অর্জনে ক্রেমলিনের নেতৃত্ব সম্ভবত কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধ স্থগিত রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু পরে আবার আগ্রাসন চালিয়ে যাবে।

দ্য গার্ডিয়ানকে ইউক্রেনের সামরিক গোয়ান্দা সংস্থার উপপ্রধান ভাদিম স্কিবিৎস্কি বলেছেন, ‘এখন এটি স্পষ্টতই গোলাবারুদের যুদ্ধ এবং খোলাখুলিভাবেই বলছি, আমরা এখন সত্যিকারভাবে বিপদের মধ্যে আছি, কারণ আমাদের গুলি ও গোলাবারুদ প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে।’

ভাদিম স্কিবিৎস্কি জানান, রুশ বাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার রাউন্ড গোলা ছুড়তে হচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনাদের। তিন মাস ধরে প্রতিদিন হাজার হাজার রাউন্ড গোলা ছুড়তে থাকায় ইউক্রেন সেনাবাহিনীর নিজেদের গোলাবরুদের মজুদ ফুরিয়ে এসেছে বলে উল্লেখ করেন স্কিবিৎস্কি।

দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের গোলার মজুদ প্রায় শেষ, এখন আমরা ১৫৫ ক্যালিবার ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ড শেল ব্যবহার করছি। কিন্তু এই শেলের মজুদও বেশি নেই। খুব হিসাব করে আমাদের গোলা ছুড়তে হচ্ছে এবং রাশিয়া যদি ১৫টি গোলা ছোড়ে, সে ক্ষেত্রে আমরা একটা গোলা ছুড়ছি। দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে সবচেয়ে বাজে অবস্থা চলছে আমাদের। বলতে গেলে, সেখানে ইউক্রেনীয় সেনারা প্রায় অস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমা মিত্ররা তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ১০ শতাংশ আমাদের দান করেছে, কিন্তু আমাদের আরও অস্ত্র প্রয়োজন, বিশেষ করে দূরপাল্লার রকেট ও গোলা। এই যুদ্ধে আমরা টিকে থাকতে পারব কিনা- এখন তা নির্ভর করছে আমাদের পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তার ওপর।’

তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যতীত রুশ বাহিনীকে বেকায়দায় ফেলার অন্য কোনো পথ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে সীমান্তে আড়াই মাস সেনা মোতায়েন রাখার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এ ঘোষণা দেওয়ার দুদিন আগে ইউক্রেনের রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন তিনি।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের দুই বন্দর শহর খেরসন ও মরিপোল, দোনেৎস্ক প্রদেশের শহর লিয়াম এবং মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ জাপোরিজ্জিয়ার আংশিক এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রুশ বাহিনীর হাতে। বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লুহানস্কের সেভেরোদোনেৎস্ক শহরে ইউক্রেন সেনাদের সঙ্গে তীব্র সংঘাত চলছে রুশ বাহিনীর।

যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকেই দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে দেনদরবার চালিয়ে আসছিল ইউক্রেন, কিন্তু এই অস্ত্র পাঠালে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর সরাসরি সংঘাত হতে পারে- এই আশঙ্কায় প্রথম পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইউক্রেনে এই অস্ত্র পাঠাতে রাজি হচ্ছিল না।

২ জুন এক বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেন, ইউক্রেনে দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হবে না- ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র রকেট সিস্টেম পাঠাতে সম্মত হয়েছে বলে জানান বাইডেন।

তবে বাইডেন এই ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই পাল্টা সতর্কবার্তা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে রকেট সিস্টেম সরবরাহ করে, তা হলে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থেকেছে রুশ বাহিনী, সেগুলোতে হামলা শুরু হবে।’

চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রুশ সেনারা ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটির সামরিক বাহিনীর ৩ হাজার ৪৪৩টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান, ১ হাজার ৮০৭টি ফিল্ড আর্টিলারি ও মর্টার, ১ হাজার ১৩৯টি ড্রোন, ৪৭৮টি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, ১৯০টি যুদ্ধবিমান ও ১২৯টি হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031