মিয়ানমারে জাতিগত গণহত্যায় ফেসবুক ব্যবহার হওয়া, হোয়াটস অ্যাপ গুজবের কারণে ভারতে গণপিটুনিতে মৃত্যু কিংবা কিউঅ্যানন বা প্রাউড বয়েজের মতো দলগুলোর উত্থানের আগে থেকেই সমগ্র বিশ্ব ছিল মার্ক জাকারবার্গের পায়ের নিচে ক্যামব্রিজ এনালিটিকার কাহিনী প্রকাশিত হওয়া। ২০১৭ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র ঘুরবেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানালেন, তিনি মানুষের জীবন, কাজ আর ভবিষ্যৎ চিন্তা সম্পর্কে সবার সঙ্গে কথা বলতে চান। তার টার্গেট ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যে যাওয়া এবং সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলা। অনেকেই মনে করেছিল ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জাকারবার্গ। তবে তিনি সবসময় এমন দাবি অস্বীকার করে গেছেন। তারপরেও তার সম্ভাব্যতা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা চলেছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার টাকা আর ক্ষমতা তার আছে।

এসব কথা লিখেছে অনলাইন বিবিসি।

এ সপ্তাহে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন মার্ক জাকারবার্গ এই পদটি পেতে চান। সম্প্রতি আমেরিকার ইকোনোমিক লিবার্টিজ প্রোজেক্টের পরিচালক সারাহ মিলার বলেন, অন্য সব একচেটিয়াবাদী টেকনোলজি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফেসবুককেই মূলত এখন দেখা হয় সবথেকে বিপজ্জনক খলনায়ক হিসেবে। ওবামা প্রশাসন সিলিকন ভ্যালির সঙ্গে ঘনিষ্ট ছিল, ফেসবুকের সঙ্গেও। বাইডেন যদি কখনো ফেসবুকের বন্ধু হয়েও থাকেন, তিনি এখন আর তা নেই। সত্যিকার অর্থে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফেসবুক শব্দটা ব্যবহার করেন ইন্টারনেটের ভয়াবহতা বোঝাতে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি জানিয়েছিলেন, আমি কখনই ফেসবুকের ভক্ত ছিলাম না। আমি কখনই জাকারবার্গের ভক্ত ছিলাম না। আমার ধারণা তিনি একটি বড় সমস্যা। ২০১৬ সালে যা হয়েছে তার জন্য ডেমোক্রেটরা ফেসবুককে দায়ি করেন। ট্রাম্পের জয়ের জন্য ক্যামব্রিজ এনালিটিকার প্রভাবই বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৯ সালে সিএনএনকে বাইডেন বলেছিলেন, ফেসবুকে তারা যা করতে পারেন আপনি চাইলেই তা করতে পারেন না। আমার ধারণা ফেসবুক আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিষয়টি ফেসবুকের জন্যেও খারাপ। দেশের টেক কোম্পানিগুলোকে পুনর্গঠন করার সুযোগ রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কিভাবে তার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে তাও নির্ধারণ করতে পারেন তিনি। সংবিধানের ২৩০ ধারা ফেসবুকসহ অন্য কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা খুশি তাই লেখা বা বলা হলের এর জন্য কোম্পানিটিকে দায়ি করা যায় না। এটি বাতিল করে দিলেই ফেসবুকসহ অন্য কোম্পানিগুলো বড় সংকটে পড়বে। বাইডেন এটি বাতিল করতে চান। ২৩০ ধারা ছাড়া ফেসবুক পরিচালিত হচ্ছে তা দেখা সম্ভব নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোকে কিনে নেয়া নিয়েও আদালতে লড়তে হচ্ছে ফেসবুককে। তবে যারা বড় টেক কোম্পানিগুলোকে ভাগ করতে চায় তাদের মিত্র হচ্ছেন বাইডেন। ২০১৯ সালেও বাইডেন বড় টেক কোম্পানিগুলোকে ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়ে ভাবতে বলেছিলেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031