সড়ক দূর্ঘটনা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। এসব দূর্ঘটনায় প্রান হারাচ্ছে মানুষ। পাশপাশি অঙ্গহানীসহ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হচ্ছে অনেকে। হঠাৎ করে দূর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের। জানা যায়, চলতি সপ্তাহের মাত্র চার দিনে নিহত হয়েছে অন্তত ৬ ব্যাক্তি। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য, নারী ও শিশুও রয়েছে।

সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, অদক্ষ চালক ও চালকদের খামখেয়ালীপনায় বেপরোয়া মনোভাব ও সড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে লবন পরিবহনের কারনেই দূর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান। সূত্রে প্রকাশ, গত ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-ককাসবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নের জামিজুরী রাস্তার মাথা পাটানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বরযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে নিহত হয় পটিয়া উপজেলার দেউরডেঙ্গা এলাকার লিটন চৌধুরীর স্ত্রী সোমা চৌধুরী (৩৫)। এ সময় আরো ১০ বরযাত্রী আহত হয় বলে জানা গেছে। আহতরা হলো অধীর তালুকদার (৩৫), পিতা- জলধর তালুকদার, টিপু চৌধুরী (৩০), পিতা-অনিল চৌধুরী, সুইটি চৌধুরী(২৪) ও রনি চৌধুরী (৩০), উভয় পিতা-তাপস চৌধুরী। আহতদেরকে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে ৪ ফেব্রæয়ারী এ সড়কে সংগঠিত হয় দুটি দূর্ঘটনা। একটি ঘটে হারবাংয়ের ইনানি রিসোর্ট এলাকায়। সেখানে বাস ও একটি হাইয়েজের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রান হারান পুলিশের কনস্টেবল এনামুল হক। নিহত এনামুল চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা পৌরসভার স্টেশন বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। একই দিন পটিয়ায় সংগঠিত দূর্ঘটনায় প্রান যায় স্কুল ছাত্র ইশান চৌধুরীর। মুজাফ্ফরাবাদ শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ইশান চৌধুরীর স্কুল ছুটির পর সড়কের পাশ দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় একটি ট্রাক পিছন থেকে তাকে চাপা দিলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এর মাত্র দুই দিন আগে ২ ফেব্রæয়ারী একই সড়কের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এক নারীসহ ৩ জন নিহত হয়। একই ঘটনায় আরও ৭ জন দগ্ধ হয়। নিহতরা হলো-মাইক্রোবাস চালক মোহাম্মদ আরিফ (৩৫), ইয়ামিন (৬) ও মাফিয়া বেগম (৪৫)। সড়কে হঠাৎ করে দূর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক দূর্ঘটনা বৃদ্ধির একাধিক কারণ রয়েছ্ েতার মধ্যে অদক্ষ চালক, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, সড়কের উপরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এর বাইরে আবার সড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে লবন পরিবহণ হওয়ায়। লবনের পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার কারনে সড়ক দূর্ঘটনা বেড়ে গেছে বলে আমি মনে করি। তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও অপরাধ প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031