আওয়ামী লীগে প্রার্থিতা নিয়ে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলেও বিএনপি থেকে প্রায় হাফ ডজন প্রার্থী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বাগেরহাট-১ আসনে আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই নিয়ে বড় দুই দলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।  তারা দলীয় সমর্থন পেতে আগে-ভাগেই যে যার মতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে আগামী নির্বাচন কেমন হবে- এ নিয়েও নানা সংশয় রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা বিভিন্নভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। এছাড়া দলের ভেতরে নানা অসঙ্গতি ও মতানৈক্য দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে তৃণমূল নেতাদের সংগঠিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে গেছে নির্বাচনের বার্তা। যদিও নির্বাচনের এখনও বছর দেড়েক বাকি। তবুও এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে থেমে নেই আলোচনা-সমালোচনা। সারা দেশের ন্যায় এখানেও রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। আগামী নির্বাচন কেমন হবে, কে কোন দল থেকে মনোনয়ন পাবেন- তা নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নানা কৌতূহল। আর এ থেকে বাদ পড়েনি বাগেরহাট-১ আসন। চিতলমারী-মোল্লারহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
চিতলমারী উপজেলায় হিন্দু ভোটার বেশি থাকায় এটাকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। এ আসন থেকে বরবারই নির্বাচন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর উপ-নির্বাচনে তার আপন চাচাত ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন নির্বাচন করেন। তিনি এক নাগাড়ে ১৮ বছর ধরে এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও ভালোবাসা দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করে গণ মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা’র নামের পরেই থাকছে শেখ হেলাল উদ্দীনের নাম। তবে শেখ হেলাল উদ্দীন অন্য কোন আসনে প্রার্থী হলে তার ছেলে শেখ সারহান নাসের তন্ময় বাগেরহাট-১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। এমনটি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র।
বিএনপি থেকে এ আসনে নির্বাচন করে বারবার পরাজিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শেখ মুজিবর রহমান। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে এক সময় প্রিয়মুখ হলেও বর্তমানে রয়েছেন একেবারে প্রচার বিমুখ। এছাড়া এখানে দলীয় কর্মকাণ্ড নড়বড়ে হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ দলের হাইকমান্ডে উপর। তবে আগামী নির্বাচনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলমসহ প্রায় এক ডজন প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন বলে বিএনপি দলীয় সূত্র জানিয়েছেন।
চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীযূষ কান্তি রায় জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে নানা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ভাবে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন তারা। তবে আওয়ামী লীগে প্রার্থিতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। দলের হাইকমান্ড যেটা নির্দেশ করবেন সেই মোতাবেক কাজ করা হবে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোমিনুল ইসলাম টুলু জানান, নানা ধরনের মামলা ও আটকের ভয়ে তারা মাঠে নামতে পারছেন না। তবে ভেতরে ভেতরে দল গোছানোর কাজ চলছে। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে বেশ কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930