বিজিএমইএ নতুন একটি ভবন করে হাতিরঝিলের ভবন ভাঙতে চায় পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন । ছয় বছর আগে ভবনটি অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন ভবন নির্মাণে কোনো প্রস্তুতি নেয়নি সংস্থাটি। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত আদেশের পর সংগঠনটির একজন শীর্ষ নেতা বলছেন, নতুন ভবনে নির্মাণ পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেয়া হবে বলে আশা করছেন তারা।

রবিবার সর্বোচ্চ আদালতের রায় প্রকাশের পর সাংবাদিকদেরকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এই কথা জানান বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে কেনিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

অবশ্য বিজিএমইএর নতুন ভবন নির্মাণ বিষয়ে কোনো প্রস্তুতিই নেই এখন পর্যন্ত। এমনকি কোথায় এই ভবন নির্মাণ হবে, সেটাও জানে না সংস্থার নেতারা।

বিজিএমইএ নেতা বলেন, ‘আমরা আরেকটা বিল্ডিং করে সেখানে সরে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সময় চেয়েছি। যা আমরা পাবো বলে আশা করি। এ ব্যাপারে সরকার আমাদের সক্রিয় সহযোগিতা করছে।’

হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায়ের বিরুদ্ধে সংস্থাটির করা আপিল খারিজ হয়ে গেছে সকালে। ছয় বছর আগে হাইকোর্টের রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে ভবন ভাঙার আদেশ দেয়া হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত রায়ে কত দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে তা বলা হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, তাদের ভবন ভেঙে ফেলতে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেয়া রায়কে শ্রদ্ধা করছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশটা একটা স্বাধীন দেশ। এখানে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা আছে। এটাকে আমরা শ্রদ্ধা করি।’

বিজিএমইএ নেতা বলেন, ‘আদালতের রায়কে আমরা অবমাননা করবো না। রায়কে মেনে নিয়েই আমরা অন্যত্র সরে যাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা আশা করি, এটার একটা সুন্দর সমাধান পাবো।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মনে অনেক দুঃখ থাকার পরেও যেহেতু প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে সবসময় সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন। তাই আমরা আশাবাদী অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সময় পাবো। মহামান্য আদালত বিষয়টিকে বিবেচনা করবেন। আমাদেরকে প্রয়োজনীয় সময়টুকু দেবেন।’

নতুন ভবন কোথায় নির্মাণ হচ্ছে এবং এই কাজ কবে শেষ হবে-জানতে চাইলে বিজিএমইএ নেতা বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণে উত্তরা এবং পূর্বাচলে প্লট দেখা হচ্ছে।’

জমির মালিকানা না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভবনটি ভেঙে ফেলতে রায় দেয় হাইকোর্ট। এরপর মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে আরও ছয় বছর।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031