ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ভারত যদি অবৈধভাবে প্রবেশ করা সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্ধেক ফাঁকা হয়ে যাবে। নাগরিকত্ব বিল সংশোধনী নিয়ে ভারতে চলমান বিতর্কের মধ্যেই দেশটির সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছে যে, যখন অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ভালো করছে, তাহলে কেন কেউ ভারতে যেতে চাইবে? এসবের প্রেক্ষিতেই বিবিসির ফ্যাক্টচেকিং টিম বা তথ্য যাচাইকারী দল দুই দেশের দাবিসমূহ যাচাইয়ের চেষ্টা করেছে।

ভারতে অবৈধভাবে বাস করছেন কতজন বাংলাদেশি?
ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন এমন বাংলাদেশির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বড় ধরণের মতানৈক্য আছে। ২০১৪ সালে ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রীপ্রকাশ জেইসওয়াল দেশটির পার্লামেন্টে দাবি করেন যে, ১ কোটি ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছে ভারতে। তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামেই এই অবৈধ বাংলাদেশিদের বসবাস বেশি। কিন্তু দুই অঙ্গরাজ্যের সরকার এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। তোপের মুখে নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করেন জেইসওয়াল। ২০১৬ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু পার্লামেন্টে বলেন, ‘হাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ২ কোটি অবৈধ অভিবাসী বর্তমানে ভারতে রয়েছে।’ তবে তিনি এই তথ্যের সূত্র উল্লেখ করেন নি।

এরপর সরকারও স্বীকার করেছে যে, ভারতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারের কাছে সঠিক তথ্য নেই। ২০১৫-২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতে নাগরিকত্ব বিষয়ক যেসব উপাত্ত আছে তা থেকেও প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন কিছু বোঝা যায় না। এই ৪ বছরে ১৫ হাজারের মতো বাংলাদেশিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। তবে প্রায় ১৪৮৮০ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে কেবল ২০১৫ সালে। ওই বছর সীমান্ত সংলগ্ন ভূমি বিনিময়ে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর ওই বাংলাদেশিদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
ফলে প্রকৃত সংখ্যা না থাকায় ভারতের রাজনীতিকরা প্রায়ই দাবি করেন যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীরা স্থানীয়দের চাকরি-বাকরি দখল করে ফেলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একবার বলেছিলেন, ‘গরিব মানুষের কাছে যে খাবার যাওয়ার কথা তা খেয়ে ফেলছে এরা

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031