ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকায় দৈনিক মানবজমিনের ফটো সাংবাদিক মো. নাসির উদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. মোস্তাইনকে দোষী সাব্যস্ত করে ইতিমধ্যে ক্লোজ করেছে । তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মাসুদুর রহমান। গতকাল নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে তিনি এ আশ্বাস দেন। এসময় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে তাকে সংশ্লিষ্ট শাখার ডিসি অফিসে তলব করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের ডিসি মো. মাসুদুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন। তারা এ ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশের সার্জেন্ট মো. মোস্তাইনের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন। ডিসি মাসুদুর রহমান অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। বুধবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে কাওরানবাজারে দৈনিক মানবজমিনের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে মৎস্য ভবন মোড়ে দায়িত্বরত ঢাকা মহানগর ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের সার্জেন্ট মোস্তাইনের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন নাসির উদ্দিন। ওই স্থানে নাসির উদ্দিনের মোটরসাইকেল থামান ওই পুলিশ সদস্য। এসময় ওই মোটরসাইকেলে দৈনিক জনকণ্ঠের ফটো সাংবাদিক জীবন ঘোষও ছিলেন। এসময় মোস্তাইন মোটরসাইকেলের নথিপত্র দেখতে চান। নাসির উদ্দিন মোটরসাইকেলের নথিপত্র দেখান। তখন তিনি নাসিরের কাছে জানতে চান তার হেলমেট কোথায়? নাসির উত্তরে বলেন, তার হেলমেটটি প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে চুরি হয়ে গেছে, নতুন আরেকটি হেলমেট তিনি কিনে নেবেন। এসময় নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছিলেন মোস্তাইন। এক পর্যায়ে নাসির ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করলে ট্রাফিক সার্জেন্ট তা কেড়ে নেন। নাসিরের কলার ধরে টেনে পুলিশ বক্সে নিয়ে আটকে রাখেন। নাসিরের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়া হয়। জীবন ঘোষ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে তাকেও ধাওয়া দেন সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা। তিনি দৌড়ে সেখান থেকে প্রেস ক্লাবে গিয়ে খবর দিলে সিনিয়র সাংবাদিকরা এসে নাসিরকে উদ্ধার করেন। এসময় সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেন মোস্তাইন। এদিকে সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে অভিযুক্ত সার্জেন্টকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে রাতেই ডিএমপি’র মিডিয়া পোর্টালে তথ্য দেয়া হয়। নাসিরকে লাঞ্ছিত করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত সার্জেন্টের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031