বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের পর এ পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শ’খানেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ বলেছে, আন্দোলনের সময় অনলাইনে সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উস্কানি দেয়া এবং সহিংসতায় অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২৯শে জুলাই ঢাকায় বাস চাপায় দু’জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষুব্ধ আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়।

এপর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে নর্থ সাউথ এবং ইস্ট ওয়েস্ট -এই দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যারয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে গত সপ্তাহেই দু’দিনের করে রিমান্ড শেষে কারাগারে রাখা হয়েছে।

এরপর গত কয়েকদিনে গ্রেফতারকৃত বাকি শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আগে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনেরও কয়েকজন নেতা এখন গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন নেতা লুৎফুন্নাহার লুমাকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় গত বুধবার। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলছিলেন, পরিস্থিতির কারণে তাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়েছে।

“অনেকের মধ্যে অনেক ভয় কাজ করতেছে।এখন অনেক জেনারেল স্টুডেন্ট ছিল, যারা এরআগে কখনও কোনো ধরণের আন্দোলনে আসেনি।তাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, এই যে ধরে নিয়ে যাওয়া বা জেলে নিয়ে যাওয়া, এই এক্সপেরিয়েন্সটাতো কারও নাই।এখন যে মামলা দিয়ে দিলো, ধরে নিয়ে গেলো, এটাতো তাদের সারা জীবন ট্রমা হিসেবে থাকবে।”

“মামলার কারণে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। আবার মামলা চালানোরও একটা ব্যাপার আছে।পরিবারকে দীর্ঘসময় মামলা চালাতে হতে পারে।”
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৫১টি।

এসব মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা কয়েকশ।ফলে যাদের আটক করা হয়, তাদের পরে এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন শেষ করে ক্লাসে ফিরে গিয়েছিল।কিন্তু পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যারয়ের শিক্ষার্থীরা নেমেছিলেন। তখনই সহিংসতা হয়েছে এবং গুজব ছড়ানোসহ নানান ধরণের উস্কানিমূলক কর্মকান্ড চলেছে বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান বলেছেন,সুনির্দিষ্ট দু’টি অভিযোগে ভাগ করে মামলাগুলো হয়েছে।

“৫১টি মামলার মধ্যে আটটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে রুজু হয়েছে। যেখানে ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার বা গুজব, এ ধরণের কনটেন্ট বা কমেন্ট লেখা বা লাইক দেয়া-এ রকম কিছু বিষয় ছিল।আর বাকি ৪৩টি মামলা হয়েছে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতার বিভিন্ন অভিযোগে।”

তবে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হেলমেট পরা যুবকদের হামলার ঘটনাগুলোও আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

সে ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর দমননীতি চালানো হচ্ছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মি সুলতানা কামাল।

“হেলমেট পরে লাঠিসোটা নিয়ে নামলা, তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখলাম না।কিন্তু খুঁজে খুঁজে ছাত্রদের এমনকি সিরাজগঞ্জ থেকেও একজন ছাত্রীকে ধরে আনা হয়েছে।এ ধরণের পদক্ষেপগুলো কিন্তু সরকারের হার্ডলাইনে মানে দমননীতির পর্যায়ে পরে যায়।”

সরকারের সিনিয়র একাধিক মন্ত্রীর সাথে কথা বলে মনে হয়েছে যে, নির্বাচনের আগে তাদেরকে বিরোধীপক্ষ চাপে ফেলতে চাইবে।সেজন্য সামাজিক ইস্যু ধরে রাজপথ উত্তপ্ত করার আরও চেষ্টা হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

আর সেকারণে তারা এখন কঠোর অবস্থান নিয়ে একটা বার্তা দিতে চাইছেন।এছাড়া তারা মনে করেন, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের এক পর্যায় তাতে রাজনীতি ঢুকে পড়েছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তথ্য প্রমাণ যাদের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে, তাদেরকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

সুত্রঃ- বিবিসি

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930