রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট থেকে শিক্ষা সমাপনকারী গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে , তারা যেন কর্মক্ষেত্রে গিয়ে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় না নেন। সিমেন্টের বদলে বালি আর রডের বদলে বাঁশ যেন না দেন।

মঙ্গলবার বিকালে বুয়েটের ১১তম সমাবর্তনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন রাষ্ট্রপতি।

প্রকৌশলীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি আহ্বান জানান, তারা তাদের মেধাকে যেন দেশের কাজে লাগান। দেশে শিক্ষা গ্রহণ করে বিদেশে যেন চলে না যান। দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ওপর প্রাধান্য দিতে বলেন রাষ্ট্রপতি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমরা সব সময় বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখবে। তবে কখনও মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। সিমেন্টের বদলে বালি আর রডের বদলে বাঁশ দিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখবে না।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অন্যায় ও অসৎ পথের অর্জন ক্ষণস্থায়ী, এতে কোনো সম্মান নেই। আছে জীবনভর অনুশোচনা। সবকিছু করবে নিজের মেধা ও আন্তরিকতাকে কাজে লাগিয়ে।’

বুয়েট প্রকৌশলীদের রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমরা হবে তরুণ প্রজন্মের আদর্শ। সেই আদর্শে নবীনরা উজ্জীবিত হবে। তোমরা বড় হও, কর্মে আগামী দিনগুলো উজ্জ্বল হোক আমি সেই দোয়া করছি।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘ডেভেলপমেন্টের কথা বলা হলে এখানে ইঞ্জিনিয়ারদের বেশি প্রয়োজন। আজকাল রাস্তা করার পরই ভেঙে যাচ্ছে, ছাদ ধসে  যাচ্ছে, এগুলো যাতে না হয় সেদিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যদি উন্নত বিশ্বে যেতে চাই, যা আমাদের স্বপ্ন, তাহলে সবার সৎ থাকতে হবে। পাশাপাশি সবার অ্যাকটিভও থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি চাই বুয়েট শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে যাতে অবস্থান নিতে পারে।’

নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ভালো ছাত্র ছিলাম না। ইন্টারমিডিয়েটে লজিকে রেফার্ড পেয়েছিলাম। সেই রেফার্ড পরীক্ষাগুলো হতো ঢাকায়। ঢাকা কলেজে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ঢাকায় আসি এবং কয়েক মাস থাকি।’

‘তখন বুয়েটের শেরেবাংলা হোস্টেলে স্ত্রীর ছোট ভাইয়ের (শ্যালক) রুমে উঠি। এক-দেড় মাস হোস্টেলে থাকার সুবাদে সবাই জেনে যায় আমি একজনের দুলাভাই লাগি। তারা আমারে পাইকারি হারে দুলাভাই ডাকতে থাকে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হওয়ায় হলের ডাইনিংয়ে খেতে পারতাম না। পাশেই হাসিনা হোটেলে মাত্র পাঁচ-ছয় আনা হলেই পেট ভরে খাওয়া যেত। আবার একটু পায়ে হেঁটে মেডিকেলের সামনে পপুলার হোটেলে গেলে চার আনা খেলেই পেট ভরতো।’

তখনকার দেড় মাসে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল বলে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ওই সময় বুয়েটে কোনো নারী শিক্ষার্থী ছিল না। বর্তমানে প্রায় ৩০ ভাগ শিক্ষার্থী ছাত্রী। দেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে এটাই তার প্রমাণ।’

রাষ্ট্রপতি জানান, দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি না হলে তার বুয়েটের সমাবর্তনে আসা হতো না। গত ছয় বছর ধরে রাষ্ট্রপতি, একবারও আসা হয়নি। এ সময় তিনি বুয়েটের শিক্ষার মান ও এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

সমাবর্তনে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগ থেকে পাঁচ হাজার ২৮৪ জন শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্রাজুয়েট এবং পিএইসডি ডিগ্রি সনদ গ্রহণ করেন। ১৮ জন শিক্ষার্থী সবোর্চ্চ নম্বর প্রাপ্তির জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সমাবর্তন বক্তব্য দেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক মো. রফিক উল্লাহ, অধ্যাপক ড. শেখ সেকেন্দার আলী, অধ্যাপক ড. মো. মাহাবুবুল আলম, অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. ফরিদা নিলুফার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930