বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। ব্রাসেলসে ইরান ও ইউরোপিয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বরিস বলেন, ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে দেশটির সঙ্গে করা চুক্তির বিকল্প পারলে যুক্তরাষ্ট্র খুঁজে বের করুক। তিনি বলেন, ওই চুক্তিটি ছিল উল্লেখযোগ্য একটি সাফল্য। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র প্রাপ্তি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। জনসন জোর দিয়ে বলেন, ওই চুক্তি সম্পূর্ণ মেনে চলছে ইরান। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বহুদিন  ধরেই ইরান পারমাণবিক চুক্তির বিরোধী।

তিনি এই চুক্তি বাতিল বা সংশোধন চান। ইরান এই চুক্তি মেনে চলছে বলে প্রত্যায়ন করা থেকেও তিনি বিরত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সরকার এই ‘চুক্তির চেতনা’ মেনে চলছে না। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে কিনা, সেটি শুক্রবারের মধ্যে তাকে নির্ধারণ করতে হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিলেন।

যখন নিষেধাজ্ঞা ছিল, তখন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। এছাড়া ইরানের তেল কিনলে জরিমানা আরোপের বিধানও রাখা হয়। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি বিপাকে পড়ে। এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়েই ইরান পারমাণবিক চুক্তি করতে রাজি হয়।

বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভাদ জারিফের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিরা ওই চুক্তির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের বিরোধিতা সত্ত্বেও ইইউর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, এই চুক্তি কাজ করছে। এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য, অর্থাৎ ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পকে সীমিত রাখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এমন একটি কার্যকর চুক্তিকে সমুন্নত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্য প্রয়োজন। এই চুক্তির ফলে বিশ্ব অধিকতর নিরাপদ। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতাও এখন থেমে গেছে। আমরা আশা করি সকল পক্ষই চুক্তি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে।

বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনসন এই চুক্তিকে ‘উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি না, ইরানকে সামরিক পারমাণবিক সামর্থ্য অর্জন থেকে বিরত রাখতে এর চেয়ে ভালো কোনও বিকল্প কেউ প্রদর্শন করতে পেরেছে।

মার্কিন প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাদেরই দায়িত্ব অধিকতর বিকল্প হাজির করা, কারণ আমরা আর ভালো কিছু দেখতে পাচ্ছি না।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তির ‘সূর্যাস্ত ধারা’ বিলুপ্ত করতে চান। চুক্তির এই ধারা অনুসারে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০২৫ সালের পর থেকে আর থাকবে না। এই সমৃদ্ধ-কৃত ইউরেনিয়াম পারমাণবিক চুল্লীর জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইউরোপের মন্ত্রীরা অবশ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প ও আঞ্চলিক সংঘাতে দেশটির সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা এ-ও বলেছেন, পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব ফেলা উচিত হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, গত বছর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার ফলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবনা লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে ইরান বলছে, তারা যেসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, তাতে পারমাণবিক ওয়্যারহেড রাখার ব্যবস্থা নেই। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক প্রকল্প সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছিল।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031