মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজার জেলায় । এতে পাহাড়ি এলাকায় আবারও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এই অবস্থায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের নেতৃত্বে গঠিত ওয়ার্ডভিত্তিক টিমগুলো পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্নভাবে বসবাসকারিদের নিরাপদ স্থানে সরানোর লক্ষ্যে গত বুধবার থেকে কাজ শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, ‘কক্সবাজার জেলায় আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। হতে পারে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষন। যেহেতু বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে Ñপুরো মৌসুম জুড়েই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই হিসেবে পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশংকা রয়েছে।’
তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় কক্সবাজারে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ১২ ঘন্টায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এদিকে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে অপসারণ সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজি মো: আবদুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ভারী বর্ষনে পাহাড় ধ্বসের কারণে জানমালের ক্ষতির আশংকা খুব বেশী থাকে। তাই জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটবৃন্দের নেতৃত্বে গঠিত ওয়ার্ডভিত্তিক টিমের সদস্যরা সংশিশ্লষ্ট ওয়ার্ডের পাহাড়গুলো পরিদর্শন করছেন। প্রথমে পাহাড়ে অতিঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিদের সরিয়ে নেয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে তালিকানুযায়ী অপসারনে প্রত্যেক টিমকে তথ্যসহ প্রস্তুতি নেয়ার দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ এ ছাড়া পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বসবাসকারিদের সরে যেতে জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে মাইকিং ও ওয়ার্ডভিত্তিক টিমের পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এ সময় জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট যথাক্রমে পিএম ইমরুল কায়েস, রুবাইয়া আফরোজ, তাহমিলুর রহমান, পঙ্কজ বড়–য়া, মোহাম্মদ সেলিম শেখ, ফারজানা প্রিয়াংকা, সাইয়েমা হাসান, মো: একে এম লুৎফর রহমান, জুয়েল আহমেদ, এহসান মুরাদ, মো: সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা রহমান, পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরে সহকারি পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসার নাসির উদ্দিন. জনপ্রতিনিধি, ফায়ার ব্রিগেড ও আবহাওয়া কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ বরাবর লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিহার থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি আকারে রয়েছে। এতে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকাসহ ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেসঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031