চট্টগ্রামে কোনো অগ্রগতি নেই  ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ভিক্ষুকমুক্ত দেশ ঘোষণা করার কথা সরকারের। সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষনা করা হলেও। এ নিয়ে দু‘একটি সভা ছাড়া তেমন কিছুই হয়নি।

হয়নি ভিক্ষুকের সংখ্যা নির্ধারণের জরিপ কাজ। উপজেলা পর্যায়ে ১৫ জন ভিক্ষুককে পূনর্বাসনের কথা বলা হলেও মহানগরে ভিক্ষুক পূনর্বাসনের সংখ্যা শূণ্য পর্যায়ে। আর এ প্রকল্পের কাজে পিছিয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের এক সভায় মহানগর এলাকায় ভিক্ষুক জরিপের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। গত ৩১ মের মধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে ভিক্ষুকদের জরিপের ফলাফল জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এতদিনেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি। ফলে উপজেলাগুলোতে ভিক্ষুক পুণর্বাসন কার্যক্রমে অগ্রগতি থাকলেও মহানগরে নেই।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উপসচিব মো. আশেক রসুল চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পর মহানগরে ভিক্ষুক জরিপের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে এখনো কোনো উত্তর না আসায় সামনে এগুতে পারিনি। খুব শীঘ্রই এসব ফলাফল হাতে আসার পর চলতি মাসের ২০ তারিখ জিএম সভায় উত্থাপন করে এই কার্যক্রমের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর পথ-ঘাট, বাস ও রেলস্টেশন, দোকাটপাট, বাজার এমনসব জায়গা খুব কমই আছে যেখানে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত মানুষদের উপস্থিতি নেই। যারা অন্যের সহায়তায় বেঁচে থাকছে। সাধারণ মানুষের কাছে কোনো সময় এরা পাচ্ছেন সহানুভ‚তি, আবার কোন সময় তাচ্ছিল্য। বিপরীতে নগরবাসীকেও সইতে হচ্ছে ভিক্ষুকদের অনাকাঙ্খিত উৎপাত।

প্রসঙ্গত, গত মার্চে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীকে উদ্ধুদ্ধকরণ, পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভিক্ষুকমুক্ত করতে সরকার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের জন্য ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান নামক ধারণা পত্র তৈরি করা হয়। এই ধারণাপত্রে পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য সময়ও বেধে দেওয়া হয়।

এরমধ্যে জেলা উপজেলা পর্যায়ে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ভিক্ষুকদের উদ্বুদ্ধকরণ সভা, প্রশিক্ষণ, ভিক্ষুকের পরিসংখ্যান সংগ্রহ, কর্মসূচি প্রণয়ণ করা এবং জুন মাস থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ আছে। প্রকল্পটিতে সমন্বয়ক হিসেবে থাকছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কাপড়ের ব্যবসা, মুদি, চা ও পানের দোকান, রিক্সা ও ভ্যানচালক, সেলাই মেশিন, দর্জির কাজ, পশু পালন সহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার কথা আছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে মহানগর এলাকা বাদে ১৫ টি উপজেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে।

ভিক্ষুক পুনর্বাসনের এসব উপজেলাগুলোতে জরিপ চালিয়ে ৩ হাজার ১৩২ জনের ভিক্ষুকের সংখ্যা পাওয়া যায়। এরমধ্যে গত ১৯ জুন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ জন ভিক্ষুককে পুণর্বাসন করা হয়েছে। তবে মহানগর এলাকায় অগ্রগতি একেবারে সামান্য। এই অঞ্চলে এখনো ভিক্ষুক পরিসংখ্যানই করা হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সালে করা এক জরিপে নগরে ভিক্ষুক সংখ্যা মাত্র ১৩০ জন। যাতে ভিক্ষুককের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীতে ভিক্ষুকদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো প্রতিষ্ঠিত কোনো জরিপ নেই। আর প্রতিদিনই বাড়ছে এসব ভিক্ষুকের সংখ্যা।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদার জানিয়েছেন, ভিক্ষুক পুণর্বাসন কার্যক্রম সফলের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন আন্তরিক। কার্যক্রমটি সফল করতে যা যা করার প্রয়োজনীয় তা সবই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যাকাত, ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদান পাওয়া অর্থ থেকে ভিক্ষুকদের পুণর্বাসনের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে। এই জন্য একটি হিসাব খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই অর্থ থেকে বিভিন্ন উপজেলায় বেশ কয়েকজন ভিক্ষুককে পুণর্বাসন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাইকে পুণর্বাসনের আওতায় আনা হবে। তিনি এই কার্যক্রমে যাকাতের অর্থ প্রদানে বিভিন্ন বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930