আওয়ামী লীগ নেতারাষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে দুরভিসন্ধিমূলক ও শেখ হাসিনাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন ।

আজ সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত আলাদা অনুষ্ঠানে এই মত দেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সকালে খাদ্য অধিদপ্তরের সামনে শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রায় ও প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। প্রধান বিচারপতিকে ইতিহাস পড়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কী কামাল হোসেন আর অন্যদিকে ফাদারস অব দি নেশন। আপনি ইংরেজি জানেন না, না? ফাদারস অব দি নেশন। আপনার রায়ে লেখা। জাতির পিতা একজনই হয়। সারা পৃথিবীর ইতিহাস পড়েন, ছাত্র তো ভালো ছিলেন না। সুতরাং ইতিহাস কতটুকু পড়ছেন জানি না। কিন্তু তবে মতলবি রায়, এটা কোনো সন্দেহ নাই।’

এই রায়কে নির্বাচন বানচালের কৌশল বলে মনে করেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জানে যে নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতায় আসার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই নির্বাচনকে কীভাবে বানচাল করা যায়, প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় সেই একটা ষড়যন্ত্রে তাঁরা মেতে উঠেছে। কোনো ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না। এটা পাকিস্তান না, এটা বাংলাদেশ।’

এ ছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সব ষড়যন্ত্রই শেখ হাসিনাকে নির্বাচন থেকে দূরের রাখার কৌশল। তিনি বলেন, ‘ছাড় নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। খালেদা জিয়া যতই বলুক শেখ হাসিনাকে ছুটি নিতে হবে শেখ হাসিনা ছুটি নেবে না ইনশাআল্লাহ। আপনাকে ছুটি দেওয়া হবে।’

সেখানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফও ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের কড়া সমালোচনা করেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা যদি অপরিপক্ব হয়, অযোগ্য হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতিও অপরিপক্ব ও অযোগ্য। অপরিপক্বদের বা অযোগ্যদের মনোনীত বা নিযোগকৃত বা নিয়োজিত আপনারা তো তাহলে অপরিপক্ব হিসেবেই জনগণের কাছে চিহ্ণিত হবেন। এই কথাগুলো বলে কেন আপনারা বিতর্কের সৃষ্টি করছেন? আর এই প্রসঙ্গগুলো তো আপনার বিচার্য বিষয় ছিল না।’

ষোড়শ সংশোধনীকে মীমাংসিত বিষয় উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করতেই এ রায় দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930