তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু পশ্চিমবঙ্গের ম্যুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন । তিনি বলেন, ‘তিস্তার পরিবর্তে মমতার বিকল্প প্রস্তাব আমরা গ্রহণই করিনি। তিস্তা তিস্তাই। এর বিকল্প হতে পারে না।’

সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি হবেই। এই সরকারের মেয়াদেই হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন ভারতের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে সেখানে আলোচিত তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। যদিও চুক্তি শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিস্তার পানিবণ্টনে চুক্তি যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্তরায়, সেটি তিনি বোঝেন। আর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও ভারতে তার সরকারের আমলেই এই চুক্তি হবে বলে জানান মোদি।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর ঢাকা সফরেই এই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে ঝুলে যায় এই চুক্তি। মমতা বলছেন, তিনিও বাংলাদেশকে পানি দিতে চান। কিন্তু তিস্তায় পানিই নেই।

ভারত সফরে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা হয়েছে মমতার। তিনি তাকে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন তোর্সার (বাংলাদেশ অংশে ধরলা) পানি তিস্তায় এনে প্রবাহ বাড়িয়ে বাংলাদেশ পানি নিতে পারে।

তবে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারত সরকার তিস্তার পরিবর্তে তোর্সা প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য বলেই মনে করছে না।

মমতার প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি কিছু না জানালেও রবিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে পানি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আগামী দিনে কী হবে, সেটি নির্ভর করছে পানিবণ্টনের ওপর। তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুত তিস্তা চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা পাবে।’

এক প্রশ্নের তথ্যমন্ত্রী বলেন, মমতা যে কথাই বলুন না কেন, তিস্তা চুক্তি হবেই এবং তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই হবে। তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি হবে এবিষয়ে দুইদেশই একমত। এটি সম্পন্ন হওয়া সময়ের ব্যাপার।’

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031