যাত্রীদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত পরিবহন কোম্পানির কর্মীরা নিজেরাই ঘোষণা দিচ্ছেন, ‘বাস কখন আসবে ঠিক নাই।’
যে বাস ছাড়ার কথা সকাল সাতটায় সেটি ছাড়েনি বেলা ১০টাতেও। আসলে কখন ছাড়বে সে নিশ্চয়তা নেই।
সকালে মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি এই টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাঁচ জেলা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ রুটের পাশাপাশি টঙ্গী হয়ে সিলেট রুটেও বাস চলে এই টার্মিনাল থেকে।

গত তিন দিন ধরেই সব কটি রুটে দুঃসহ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছে লাখো যাত্রী।

রাসেয়া বুসরা যাবেন নওগাঁয়। সঙ্গে আছে তার শিশু সন্তানসহ অন্য স্বজনরা। সকাল সাতটার বাসের টিকিট কাটা ছিল, টার্মিনালে তিনি পৌঁছেন একটু আগেভাগেই, ভোর সাড়ে ছয়টায়। এরপর সাতটা পেরিয়ে সকাল আটটা যায়, এরপর বাজে নয়টা, এরপর ১০টা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বাস আর আসে না।

ত্যক্ত বিরক্ত রাবেয়া কাউন্টারে বারবার জানতে চান, বাস কখন আসবে। পরিবহন শ্রমিকদের সেই এক জবাব, ‘জামে আটকা আছে’।

এই কথা শুনতে শুনতে বিরক্তি আরও বাড়ছে রাবেয়ার মত যাত্রীদের। একটু আগেভাবে বাড়ি যাবেন বলে কেউ এসেছেন ভোর পাঁচটায়, কেউ ছয়টায়, কেউ তার কিছু সময় পর। কিন্তু সবাইকেউ একইভাবে অপেক্ষা করিয়ে রেখেছে মহাসড়কের যানজট।

ঢাকা থেকে সপরিবারে বগুড়া যেতে মহাখালী টার্মিনালে এসেছিলেন মোস্তাফিজার। আগে থেকে টিকিট কাটা ছিল না। এই টার্মিনালের বেশিরভাগ গাড়ির টিকিটই যাত্রার সময় দেয়া হয়। মোস্তাফিজারের আশা ছিল ভোরে নির্বিঘ্নে যাওয়া যাবে। কিন্তু বেলা ১০টার সময় ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। কারণ, তার শিশু সন্তান কান্নাকাটি শুরু করেছে। এরপর তিনি ঠিক করলেন গাবতলীতে যাবেন, অন্য একটি বাসে ওঠার চেষ্টা করবেন। তার আশা, ওই পথে হয়ত যানজট কিছুটা কম।

গাবতলীতেও তো অবস্থা একই রকম। ওখানে গিয়ে কিছু পাবেন?- জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে মোস্তাফিজার বলেন, ‘দেখি কী হয়, ওখানে তো গাড়ি বেশি।’

লুৎফুর রহমান যাবেন রংপুরে। তিনিও ভোরে এসেও সকাল ১০টার সময়ও বাসে উঠতে পারেননি। বলেন, ‘যাত্রীদের চরম হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু কাউকে দোষ দিতে পারছি না।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে তিন দিন ধরে গাড়িকে চলতে হচ্ছে শম্বুক গতিতে। আর দুই ঘণ্টার যাত্রা কখনও কখনও ১২ ঘণ্টাতে গিয়েও ঠেকছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় আসতে না পারায় সময় মেনে চলতে পারছে না কোনো বাস।

কাউন্টারে ভোরে যাত্রীদের খানিকটা ভরসা দিলেও এখন বলা হচ্ছে, গাড়ি কখন আসবে তার ঠিক নাই।

বগুড়া-ঢাকা রুটের একতা পরিবহনের চাল মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, গতকাল বিকাল তিনটায় তিনি বগুড়া থেকে যাত্রা শুরু করে ঢাকায় পৌঁছেন রাত সাড়ে চারটায়। অথচ ১৩ ঘণ্টায় দুইবার আসা এবং একবার যাওয়া সম্ভব।

কেন এই পরিস্থিতি-জানতে চাইলে এই চালক বলেন, ‘টাঙ্গাইল থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরোটাতেই যানজট।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের এনা পরিবহনের সুপারভাইজার সোহাগ জানান, ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে জয়দেবপুর থেকে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্তেআর আসার পথে মাওনা চৌরাস্তা থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরোটা পথেই যানজট। আর বাস আসতে না পারার ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

জামালপুরের নাবিল পরিবহনের চালক রজমান আলী জানান, এই জেলা থেকে যেসব বাস এমনিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে চলে, সেগুলো এখন চলছে ময়মনসিংহ হয়ে।

গত কয়েক বছরে মহাসড়কে এমন ভোগান্তি দেখা যায়নি। এবার এমন কেন হচ্ছে?- জানতে ঈদে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে খোলা নিয়ন্ত্রণ পক্ষে ফোন করা হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা বিআরটিএর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) সিরাজুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘

হ্যাঁ, গত কয়েক বছর পরিস্থিতি তো ভালো ছিল, এবার কী হলো সেটা বোঝার চেষ্টা করছি।’

সিরাজুল ইসলাম জানান, ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল, চন্দ্রা-চান্দিনায়, পাটুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের খবর এসেছে তাদের কাছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031