আজ বুধবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ১ জুলাই। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির সেই ট্রাজেডির বিচারের রায় হচ্ছে। ইতিমধ্যে রায় ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার পর গুলশান থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই সকাল ৯টা থেকে গুলশান থানার ৭১ নম্বর রোড থেকে ৯২ রোড এবং এর আশপাশের এলাকায় সরকারি গাড়ি যোগে পেট্রোল ডিউটি করছিলাম। রাত অনুমান ৮টা ৪৫ মিনিটে বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে জানতে পারি, গুলশানস্থ ৭৯ নং রোডের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে গোলাগুলি হচ্ছে।

সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাত অনুমান ৮টা ৫০ মিনিটে রেস্টুরেন্টের কাছাকাছি উপস্থিত হই। এসময় দেখতে পাই রেস্টুরেন্টের ভেতরে কতিপয় সন্ত্রাসী ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর বোমা নিক্ষেপ ও এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে তারা পাল্টা গুলি চালায়।

এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত গুলি ও গ্রেনেডের আঘাতে এসআই ফারুক হোসেন ও তার সঙ্গীয় কনস্টেবল প্রদীপ চন্দ্র দাস ও আলমগীর হোসেন মারাত্মক জখম হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এসময় আমি (এসআই রিপন কুমার দাস) তাৎক্ষণিক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ডিএমপির সংশ্লিষ্ট সকল অফিসার ও ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়ে হলি আর্টিজান বেকারির চতুর্পাশ কর্ডন করে ফেলে। অফিসার ও ফোর্স সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকে লক্ষ্য করে অনবরত গ্রেনেড ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে।

এমন অবস্থায় রাত অনুমান সাড়ে দশটায় সন্ত্রাসীরা হলি আর্টিজানের রেকারির পশ্চিম দিকের ৭৯নং রোডের ২০নং বাড়ির সামনে অবস্থানরত পুলিশ অফিসার ও ফোর্সদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে ৩০-৩৫ জন পুলিশ অফিসার ও ফোর্স আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ মারাত্মক জখম হন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত অনুমান ১১টা ২০ মিনিটে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহউদ্দিন খান মৃত্যুবরণ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল করিম মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশের আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতনদের সিদ্ধান্তে ২ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন জিম্মিদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করে।

অভিযানে সন্ত্রাসীরা কমান্ডো বাহিনীর উপর হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণের মাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ করে। অভিযানে ছয়জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং জিম্মিদশা থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

সিআইডি ক্রাইম সিন বিভাগের সহায়তায় গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস, এসআই মফিদুল ইসলাম, এসআই জয়নাল আবেদীন, এসআই হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থল হতে সন্ত্রাসী কর্তৃক ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্যাদিসহ অন্যান্য উপাদানাবলি ও ভিকটিমদের ব্যক্তিগত মালামাল সাক্ষীদের মোকাবেলায় জব্দ করে নিজ হেফাজতে নেন।

দীর্ঘ দুই বছরের তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২১ জনের তথ্য প্রমাণ পেয়েছে সিটিটিসির তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। প্যারা অভিযানে পাঁচজন এবং বিভিন্ন সময় অভিযানে আটজন নিহত হয়।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031