একাত্তরে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে রাজাকার বাহিনীর সদস্য পলাতক ইদ্রিস আলী সরদারকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুরুতেই সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করবেন বলে জানান।

রায় ঘোষণার শুরুতে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, এ রায় দেওয়া হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। অপরাধের বিষয়ে একমত হলেও একজন বিচারপতি সাজার বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।

মোট ৪৮৬ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। প্রথম অংশ পড়ে শোনান বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম। এরপর বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী কিছু অংশ পড়ার পরে রায়ের মূল অংশ অর্থাৎ সাজা ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, একাত্তরের ২৫ মার্চ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তখনকার পালং থানার আংগারিয়া, কাশাভোগ, মানোহর বাজার, মধ্যপাড়া, ধানুকা, রুদ্রকরসহ হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোতে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালিয়ে নয়জনকে হত্যায় সহায়তা করেন এবং তিন শতাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ধর্ষণ চালান।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধকালে ইদ্রিস ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের স্থানীয় নেতা। আর সোলায়মান প্রথমে মুসলিম লীগ ও পরে জামিয়াতুল উলামায় ই-ইসলামীর নেতা ছিলেন।

রায় পড়া শেষে ট্রাইব্যুনাল বলেন, প্রসিকিউশনের আনা চার অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে আসামি ইদ্রিস আলী সরদারের সাজা কার্যকর করতে হবে। এ মামলায় অপর আসামি মাওলানা সোলায়মান মোল্যা গত ২৫ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ কারণে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ মোট চারটি অভিযোগ ছিল ইদ্রিস রাজাকারের বিরুদ্ধে। এর মশ্যে প্রথম দুই অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড, তৃতীয় অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং চতুর্থ অভিযোগ সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার দুই আসামির মধ্যে সোলায়মান মোল্লা ওরফে সোলেমান মৌলভী গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে মারা যান। এজন্য তাকে মামলার দায় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৪ জুন সোলায়মান-ইদ্রিসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই রাতে গোয়েন্দা পুলিশ সোলায়মান মোল্লাকে গ্রেফতার করলেও ইদ্রিস সরদার পলাতক।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে সাত খণ্ডে ৮৫২ পাতার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করেন তদন্ত সংস্থা।

এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের সঙ্গে ঋষিকেশ সাহা ও রেজিয়া সুলতানা চমন শুনানিতে অংশ নেন। রায় শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে বলেন, প্রসিকিউশনের আনা চার অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে আসামি ইদ্রিস আলী সরদারের সাজা কার্যকর করতে হবে। এই রায়ে আমরা সস্তুষ্ট।তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল পলাতক ইদ্রিসকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশও দিয়েছেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031