শিরোপা হাতছাড়া বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙে দিয়েছেন দীনেশ কার্তিক। শেষ বলে ছক্কা হঁকিয়ে বাংলাদেশকে করেছেন । প্রথম ব্যাটিং করে ১৬৬ রানের সাটামাটা স্কোর গড়েও শেষ দিকে যেভাবে ম্যাচে নিজেদের দিকে নিয়ে এসেছিল টাইগাররা, সেটাও বড় কৃতিত্বের। আসুন আবার দেখে নেওয়া যাক শেষ তিন ওভারের রোমাঞ্চর সেই নাটক। ১৮ বলে ভারতের দরকার ছিল ৩৫ রান।

মোস্তাফিজের ম্যাজিক্যাল ওভার

আগের তিন ওভারে যথষ্টই রান দিয়েছেন।তবে ১৮তম ওভার করতে এসে সেই পুরানো মোসস্তাফিজকে খুঁজে পাওয়া গেল। রীতিমত ম্যাজিক দেখালেন কাটার বয়। ৬ বলে মাত্র এক রান দিয়ে বিদায় পাল্ডেকে (২৮ রান) বিদায় করে ম্যাচ নিয়ে আসেন পুরো বাংলাদেশের পক্ষে। মোস্তাফিজের প্রথম চারটি বল ছিল একই রকম, বুদ্বিদীপ্ত বোলিং। আউট সুয়িংয়ের সঙ্গে অফ কাটার। চোখে সরষের ফুল দেখেছেন বিজয় শঙ্কর। পঞ্চম বলে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়েছিলেন তিনি। বল পড়েছিল স্ট্যাম্পের পাশেই লেগ বাইয়ের সুবাদে আসে এক রান। ওভারে শেষ বলে আউট হয়ে যান পাল্ডে।

রুবেলের সর্বনাশা ওভার

শেষ দুই ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৩৪ রান। মানে পতি ওভারে ১৭ করে। পুরো গ্যালারি তখন স্তব্ধ। ম্যাচ তখন নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশের পক্ষে।কিন্তু সর্বনাশ করে দেন রুবেল। লুস বল করে ২২ রান দিয়ে বাংলাদেশের জয় অনেকটাই হাতছাড়া করে দেন এ পেসার। দুর্বল বল পেয়ে প্রথম তিন বলে ১৬ রান নিয়ে নেন দীনেশ কার্তিক ( ছক্কা, চার, ছ্ক্কা)। চতুর্থ বলে দুই রান, পঞ্চম বলে কোনো রান না হলেও শেষ বলে চার। কঠিন সমীকরণ থেকে সহজ সমীকরণে চলে আসে ভারত।

চূড়ান্ত নাটক, শেষ বলে দরকার ৫ এবং কর্র্তিকের ছ্ক্কা

শেষ ওভারে ভারতের চাই ১২ রান। কিন্তু মোস্তাফিজদের ৪ ওভারের কোটা শেষ হওযায় কঠিন এ দায়িত্ব বর্তায় অনিয়মিত বোলার সৌম্য সরকারের উপর। বেচারা সৌম্য! নিয়মিত বলই করেন না, সেখানে এমন গুরু দায়িত্ব।

প্রথম বল দিলেন ওয়াইড, পরের বলে রান হলো না।এরপরের বলে এক রান। শেষ চার বলে দরকার ১০ রান। তৃতীয় বলে হলো এক রান। পরের বলে চার। তবে পঞ্চম বলে বিজয় আউট হওয়া্য় আবার চরম নাটক। শেষ বলে দরকার ৫ রানে। মানে ছ্ক্কা মারতে হবে ভারতকে জিততে হলে। আর ছ্ক্কা বাঁচাতে পারলেই হলো। দরকার ছিল ইয়র্কার জাতীয় বল করা। কিন্তু অনভিজ্ঞ সৌম্য করলেন সাদামাটা বল। বাংলাদেশকে হতাশ করে ছক্কা হাঁকিয়ে বসলেন অভিজ্ঞ দীনেশ কার্তিক।

২০১৬ সালে ব্যাঙ্গালোরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই বেদনায়দায়ক হারের পূণরাবৃত্তি। আবার কষ্টের হার, জয়ের দ্বারপ্রন্তে এসেও।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930