বিএনপির টানা কয়েক বছর আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি ছিল । তবে ২০১৬ সালে এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে তারা। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বিএনপির ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশনে দলের এই আয় ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

সোমবার নির্বাচন কমিশনার সচিবালয়ে দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, ২০১৬ সালে তার দলের ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়েছে ১৪ লাখ চার হাজার ৮৭৮ টাকা।

রিজভী বলেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের আয় হয়েছিল চার কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০টাকা। ব্যয় হয়েছিল তিন কোটি ৯৯লাখ ৬৩ হাজার ৮৫২ টাকা।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এর পর থেকে প্রতি বছর দলগুলো এই হিসাব জমা দিয়ে আসছে।

আজ একই দিন সকালে নির্বাচন কমিশনে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রায় প্রতি বছরই তাদের ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়েছে এক কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৮ টাকা। অবশ্য গত বছরের তুলনায় এই আয় এক কোটি ৯০ লাখ টাকারও কম। আবার ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালেও তাদের আয় কমেছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

তবে বিএনপিতে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি ছিল। তবে প্রতি বছর এই ঘাটতি কমিয়ে আনতে পেরেছে দলটি।

২০১৪ সালে বিএনপির দুই কোটি ৮৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় ছিল তিন কোটি ৫৩ লাখ তিন হাজার ৫০৯ টাকা। তখন ঘাটতি ছিল ৫৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৬ টাকা।

আর ২০১৫ সালে এই ঘাটতি কমে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকা। এই বছর বিএনপির আয় হয় এক কোটি ৭৩ লাখ তিন হাজার ৩৬৫ টাকা। আর বিভিন্ন খাতে দলটি খরচ দেখায় এক কোটি ৮৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৯ টাকা।

২০১২ সালেও বিএনপির ঘাটতি ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। আর ২০১৩ সালে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৪৭ লাখ ৮০ হাজার ৯১২ টাকা।

রিজভী বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি ছিল। কিন্তু গত বছর আমাদের সম্মেলন হওয়ায় আমরা ডোনেশন পেয়েছিলাম। তাই আমাদের আয় বেশি হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, দলীয় সদস্যদের চাঁদা, সদস্য ফরম, দলের বিভিন্ন প্রকাশনা বিক্রি ও ডোনেশন থেকে আমাদের আয় হয়। অন্যদিকে দলীয় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, ইফতার পার্টিসহ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আমাদের অর্থ ব্যয় হয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031