কয়েক ঘণ্টা আর মাত্র । তারপরই একুশের প্রথম প্রহর থেকে শুরু হবে ভাষা শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রস্তুত। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মিনারে শেষ সময়ের ঝাড়ু, ধোয়া-মোছা ও রংয়ের কাজ হচ্ছে। শহীদ মিনার এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক ওয়াচ টাওয়ার। পুরো এলাকায় টহল দিচ্ছে র‌্যাব ও পুলিশ। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিজস্ব পোশাক ছাড়াও সাদা পোশাকে নজরদারি করছেন। সোমবার দুপুরে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় তল্লাশি চালানোও হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের (শহীদ মিনারের শাখা কর্মকর্তা) উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুচ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) আট জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ১৩ জন রং মিস্ত্রি কাজ করছেন। রাত ১১টা পর্যন্ত কিছুক্ষণ পরপর ঝাড়ু দেওয়া হবে। এরই মধ্যে শহীদ মিনারে সূর্য বসানো হয়েছে। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, শহীদ মিনার এখন শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত।’

সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনারে মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র‌্যাব গতকাল (রবিবার) রাত থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রাঙ্গণ (বেদি), শহীদ মিনার ও আউটডোর কেন্দ্রিক তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় র‌্যাবের পেট্রোল ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা দল থাকবে। শহীদ মিনারের সামনে অবজারভেশন চেকপোস্ট থাকবে। স্ট্যান্ডিং ও মোবাইল পেট্রোল টিম থাকবে। পুরো এলাকায় সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ মনিটরিং করা হবে। র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড পুরো এলাকা সুইপিং করেছে, প্রস্তুত রয়েছে বম্ব স্কোয়াডও। সবদিক মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র‌্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সড়কগুলোতে চারুকলার শিক্ষার্থীরা সোমবার বিকাল পর্যন্ত আলপনা এঁকেছেন। সড়কগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে। কিছু সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘শহীদ মিনার ও এর আশেপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কোনও ধরনের নাশকতার আশঙ্কা নেই।’

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, মন্ত্রী পরিষদ, তিন বাহিনীর প্রধান ও পুলিশ প্রধানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংগঠন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031